ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদি কাৎজ মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের বাইত আল‑বসতিতে নতুন আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাজা উপত্যকার ওপর তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে ইসরায়েল কখনোই গাজা থেকে সরে যাবে না। একই সময়ে তিনি উত্তর গাজার পরিত্যক্ত ইসরায়েলি বসতিগুলো পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা উন্মোচন করেন।
বক্তব্যের সময় কাৎজ উল্লেখ করেন যে ইসরায়েল গাজার গভীরে অবস্থিত এবং ভবিষ্যতে গাজার কোনো অংশ ত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি আরও যোগ করেন যে উপযুক্ত সময়ে উত্তর গাজার উচ্ছেদ হওয়া বসতিগুলোর স্থানে সামরিক পোস্ট বা নাহাল আউটপোস্ট স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নাহাল আউটপোস্ট বলতে মূলত সেই সামরিক ফাঁড়িগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলো ২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েল ও দখলকৃত ভূখণ্ডে গড়ে তোলা হয় এবং পরবর্তীতে কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোকে স্থায়ী বেসামরিক বসতিতে রূপান্তর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই ধারণা তুলে ধরেছেন যে এমন পোস্টগুলো কেবল সামরিক উপস্থিতি নয়, দীর্ঘমেয়াদী বসতি পরিকল্পনার সূচক হিসেবেও কাজ করতে পারে।
কাৎজের এই মন্তব্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারি নীতির সঙ্গে সরাসরি বিরোধ সৃষ্টি করে। নেতানিয়াহু বহুবার স্পষ্ট করে বলেছেন যে গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই এবং তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় গাজার যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা দখল না করার স্পষ্ট ধারা রয়েছে। কাৎজের গাজা ত্যাগ না করার প্রতিশ্রুতি ও বসতি পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত উভয়ই ট্রাম্পের পরিকল্পনার মূল নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
কাৎজের বক্তব্যের পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা দেখা যায়। আন্তর্জাতিক অংশীদাররা ইসরায়েলকে নিরাপত্তা সংকটের সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে সতর্ক করেন এবং গাজা সংক্রান্ত আলোচনায় গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে কাৎজের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়। কিছু বিশ্লেষক দাবি করেন যে তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থনকে উপেক্ষা করে উসকানিমূলক রেটোরিক ব্যবহার করছেন, যা দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
একজন প্রাক্তন সেনাপ্রধান সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানান যে সরকার ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন করার পাশাপাশি গাজায় বিচ্ছিন্ন বসতি গড়ার কল্পনা তুলে ধরছে, যা দুইটি বিপরীতমুখী নীতির সমন্বয় ঘটাচ্ছে।
বহু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া কাৎজের মন্তব্যকে গাজা সংক্রান্ত শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকারক বলে সমালোচনা করে এবং ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে কাজ করার আহ্বান জানায়।
বক্তব্যের পর কাৎজ কিছুটা অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি পরবর্তীতে উল্লেখ করেন যে গাজা সংক্রান্ত তার পূর্বের মন্তব্যের কিছু অংশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক চুক্তির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।
এই ঘটনা গাজা সংক্রান্ত আলোচনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে। গাজা ত্যাগ না করার দৃঢ়তা এবং সম্ভাব্য বসতি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যে টানাপোড়েন বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করেন যে কাৎজের মন্তব্যের পরবর্তী ধাপ হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনরায় সংলাপ, যাতে গাজার নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বিত সমাধান বের করা যায়। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সরকারকে তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে হবে।
গাজা সংক্রান্ত এই নতুন বিবৃতি ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলবে কিনা, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



