গুজরাটের রাজধানী ইস্লামাবাদে মঙ্গলবার ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক‑ই‑ইনসাফ) দলের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে সংলাপের দরজা খুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দল যদি আন্তরিকতা দেখায় এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
শাহবাজ শরিফের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি, আর তা অর্জনের জন্য সংলাপের পথ খোলা রাখা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিরোধী দলকে সৎ ইচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করতে হবে, নতুবা কোনো আলোচনার ভিত্তি গড়ে উঠবে না।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অতীতের সংলাপ আহ্বানের কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি পূর্বে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা এখন শর্তসাপেক্ষে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা মানে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক নীতির রক্ষা করা। তাই, শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে সংলাপকে মূলধারার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, শাসনকর্তারা যে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো সংস্কারমূলক উদ্যোগকে সরকার সমর্থন করবে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিশেষত, মুদ্রা স্ফীতি কমানো এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নতুন নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
শাহবাজ শরিফ জোর দিয়ে বলেন যে, সংস্কার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের সেবা করতে হবে, এবং তা আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন না করে করা উচিত। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন যে, কোনো সংস্কার যদি স্বার্থপরতা বা স্বৈরাচারী প্রবণতা বাড়ায়, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) বেসরকারিকরণকে অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। প্রক্রিয়াটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার জন্য সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দরদাতাদের নির্বাচন ও চুক্তি স্বাক্ষরের সব ধাপ জনসাধারণের নজরে থাকবে, যাতে কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা দূর হয়।
শর্তসাপেক্ষে সংলাপের সূচনা এবং পিআইএ বেসরকারিকরণে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি বিরোধী দল শর্ত পূরণ করে, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
সারসংক্ষেপে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের এই ঘোষণায় দেখা যায় যে, সরকার সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে প্রস্তুত। শর্তসাপেক্ষে আলোচ



