20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিলালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির অনুপস্থিতি, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা

লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির অনুপস্থিতি, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে লালমনিরহাটে রাজনৈতিক গতি তীব্রতর হয়েছে। এক সময় জাতীয় পার্টির (জাপা) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এখন দলটির সংগঠনগত উপস্থিতি প্রায় শূন্য বলে বলা যায়। ফলে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামি—একই সময়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ব্যস্ত।

জাতীয় পার্টি, যদিও সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পরিসরে বড় পরিবর্তন দেখেছে, তবু লালমনিরহাটে মাঠে সক্রিয় হতে পারেনি। জাপার নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিনের সংগঠনগত দুর্বলতা ও নেতৃত্ব সংকটের কারণে নির্বাচনী প্রাঙ্গণে দৃশ্যমানতা হারিয়েছে। এক সময় একাধিক সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করলেও এখন তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কার্যকলাপ দেখা যায় না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬২ হাজার ৬২৮। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ২৪ হাজার ৫২২, নারী ভোটার ৫ লাখ ৩৮ হাজার ১০৬, এবং হিজড়া ভোটার আটজন। জেলায় ৩৮৫টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২,১৯৩টি ভোটকক্ষ ব্যবহার করা হবে।

এই জেলায় ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে বিভিন্ন দল স্থানীয় ইস্যু ব্যবহার করছে। তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা, বার্ষিক বন্যা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামি তাদের প্রচারণা চালাচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, যা পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট‑১ আসনে প্রধান নির্বাচনী বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬২২।

জামায়াতে ইসলামি ইতিমধ্যে লালমনিরহাট‑১ আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু স্থানীয় ইউনিয়ন সভা, হাট-বাজারে গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছেন। কোভিড‑১৯ মহামারীর সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ফলে রাজু এলাকার মধ্যে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন বলে দলীয় নেতারা জানান।

বিএনপি-ও একই সময়ে তিস্তা নদীর সঠিক ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের ন্যায্য মুনাফা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। উভয় দলই স্থানীয় সমাবেশ, গণসংযোগ এবং ভোটারদের সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করছে।

জাতীয় পার্টির অনুপস্থিতি লালমনিরহাটের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করেছে। ঐতিহ্যগতভাবে জাপা যে জায়গায় শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছিল, সেখানে এখন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামি প্রধান দুই শক্তি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলছে। এই পরিবর্তন নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে উভয় দলের প্রচারণা তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব বাড়বে বলে ধারণা করা যায়।

অতিরিক্তভাবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দলও লালমনিরহাটে তাদের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছে। তারা সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ এবং স্থানীয় ইস্যুতে জোর দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। এসব দলও নির্বাচনী প্রাঙ্গণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জেলার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্রতর করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির সংগঠনগত শূন্যতা, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নতুন দলগুলোর প্রবেশই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটারদের কাছে তিস্তা নদীর সঠিক ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ন্যায্যতার বিষয়গুলোই প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে, যা নির্বাচনের ফলাফলকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments