ব্রিটিশ অভিনেত্রী জেসিকা গানিং, নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘বেবি রিন্ডিয়ার’‑এ মার্থা চরিত্রে অভিনয় করে বিশাল সাফল্য অর্জন করেন। সিরিজটি প্রকাশের পর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং গানিংকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
গানিং এই ভূমিকাকে তার জীবনের “একটি স্বপ্নের মতো” অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। স্ক্রিপ্টটি প্রথম হাতে নেয়ার সময় তিনি উচ্ছ্বাসে ভরে গিয়ে শিহরণ অনুভব করেন এবং এই চরিত্রের জন্য পাঁচটি অডিশন দিতে হয়।
সিরিজটি নেটফ্লিক্সে প্রকাশের পর দ্রুতই আন্তর্জাতিক স্তরে জনপ্রিয়তা পায়, তবে গানিং প্রথমে এটিকে একটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের মতো ভাবতেন, যা পরে বিশাল দর্শকসংখ্যা অর্জন করে। তার অভিনয়কে কেন্দ্র করে দর্শকরা প্রায়ই গলায় গিয়ে তাকে মার্থা চরিত্রের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন।
একটি ঘটনার বর্ণনা করা যায়, যখন গানিং তার বাড়ির কাছাকাছি গাড়ি পার্ক করছিলেন, তখন এক নারী তার মুখে চিৎকার করে তাকে মার্থা বলে ডেকেছে। গানিং এ ঘটনাকে “অসাধারণ” এবং “অপ্রত্যাশিত” বলে উল্লেখ করেন, যা তার দৈনন্দিন জীবনে নতুন রঙ যোগ করেছে।
শোটি প্রকাশের পর বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার জন্য উল্লেখযোগ্য তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করেছে, বিশেষ করে পুরুষ যৌন নির্যাতনের শিকারদের জন্য কাজ করা সংস্থাগুলোর জন্য। গানিং উল্লেখ করেন, শোটি জটিল গল্পের চাহিদা পূরণ করে এবং বিভিন্ন বয়সের দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
শোটি মূলত স্রষ্টা রিচার্ড গ্যাডের বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যিনি শোতে প্রধান চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। তবে মার্থা চরিত্রের অনুপ্রেরণার ভিত্তি হিসেবে দাবি করা নারীর মতে, নেটফ্লিক্স তার সম্পর্কে “অত্যন্ত মিথ্যা” তথ্য প্রচার করেছে।
এই নারী জুন ২০২৪-এ নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মানহানি, অবহেলা এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে শোটি তার জীবনের সত্যিকারের ঘটনাগুলোকে বিকৃত করে বিশ্বব্যাপী ৫০ মিলিয়নেরও বেশি দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেছে।
সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ একটি আদালত গৃহীত রায়ে শোতে উল্লেখিত কিছু মূল ঘটনা, যেমন স্টকিংয়ের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া, বাস্তবে ঘটেনি বলে নির্ধারণ করা হয়। রায়ে শোটি “সত্যিকারের গল্প” হিসেবে প্রচার করা হলেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গানিং এই রায়ের পরেও শোয়ের সামাজিক প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিশেষ করে দাতব্য কাজের ক্ষেত্রে শোটি যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে তা অস্বীকার করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, শোটি তরুণ ও বৃদ্ধ উভয় দর্শকের সঙ্গে সংলাপ গড়ে তুলেছে।
শোটি দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে; কিছুজন এটিকে কঠিন ও কষ্টদায়ক বলে বিবেচনা করেন, আবার অন্যরা এর গভীরতা ও মানবিক দিককে প্রশংসা করেন। গানিং এই মতামতকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, জটিল চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দিকগুলো প্রকাশ পায়।
শোয়ের সৃষ্টিকর্তা রিচার্ড গ্যাডের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শোতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, বাস্তব ঘটনার সঙ্গে তার সাদৃশ্য নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। গানিং এই বিতর্ককে শিল্পের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখেন এবং তার কাজের প্রতি দর্শকের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি শিল্পের শক্তি।
বেবি রিন্ডিয়ার সিরিজের মাধ্যমে গানিংকে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জনসাধারণের ভুল ধারণা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার রক্ষা। তিনি ভবিষ্যতে এমন আরও জটিল চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করবে।
শোটি এখনো নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিংয়ে রয়েছে এবং নতুন দর্শকরা নিয়মিতই এটি দেখছেন। গানিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং শোয়ের সামাজিক প্রভাবের সংমিশ্রণ, দর্শকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



