২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী নারী ক্রীড়া দ্রুত বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি, বাংলাদেশও দুইটি প্রধান খেলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ক্রিকেট ও ফুটবলে সীমিত প্রস্তুতি সত্ত্বেও দলগুলো দৃঢ়সংকল্প ও উন্নতির চিহ্ন দেখিয়েছে, যা দেশের ক্রীড়া ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল, টিগারেস, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজিত ২০২৫ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। এই টুর্নামেন্টে দলটি পূর্বের তুলনায় বেশি ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়নি, তবে পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
টিগারেসের শুরুর ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দৃঢ় জয় অর্জন করে, যা দলের আত্মবিশ্বাসকে ত্বরান্বিত করে। পরবর্তী পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়, যেখানে দলটি প্রতিপক্ষকে নিকটবর্তী পার্থক্যে পরাজিত করে।
শ্রীলঙ্কা দলের বিরুদ্ধে ম্যাচটি বিশেষভাবে কষ্টকর ছিল। ২০৩ রান লক্ষ্য করে বাংলাদেশ শেষ পাঁচটি উইকেট ছয় ডেলিভারিতে মাত্র এক রান করে হারিয়ে, মোট সাত রান কমে পরাজিত হয়। এই দ্রুত পতন দলকে সম্ভাব্য জয়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে প্রতিপক্ষের শক্তি মোকাবেলায় তাদের দৃঢ়তা প্রকাশ পায়।
প্রস্তুতির দিক থেকে টিগারেসের পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের ব্যবস্থা করতে না পারায় দলটি বয়স-গ্রুপের ছেলেদের দলের সঙ্গে অনুশীলন করে। এই সীমিত প্রস্তুতি সত্ত্বেও দলটি উচ্চ র্যাঙ্কের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স দেখায়।
ক্রিকেটে পূর্বের একক জয় থেকে এখনো বেশি ফলাফল না পেলেও, টিগারেসের সামগ্রিক খেলা উন্নতির পথে রয়েছে। সীমিত সম্পদ ও প্রস্তুতির বাধা সত্ত্বেও দলটি ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করে এবং ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে আরও ভাল ফলাফলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলও এক অনন্য বছর পার করেছে। কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে মতবিরোধের পরও দলটি ২০২৬ সালের এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রথমবারের মতো যোগ্যতা অর্জন করে। এই সাফল্য দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যায়।
যোগ্যতা অর্জনের পথে দলটি হোস্ট মিয়ানমার, বাহরাইন এবং তুর্কমেনিস্তানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক জয় অর্জন করে, যা তাদের গ্রুপের শীর্ষে রাখে। প্রতিটি ম্যাচে দলটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলায় প্রবেশ করে এবং প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে চ্যালেঞ্জ করে।
বিশেষ করে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানের বিরুদ্ধে ৭-০ স্কোরের বিশাল জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের শীর্ষে নিয়ে যায়। উচ্চ র্যাঙ্কের মিয়ানমারকে ২-১ স্কোরে পরাজিত করে দলটি নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করে, যা ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় বড় ভূমিকা রাখবে।
এই ধারাবাহিক জয়ের ফলে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল FIFA নারী বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১২৮তম স্থান থেকে ১০৪তম স্থানে উঠে আসে, যা আগস্টের প্রথম দিকে সর্বোচ্চ অগ্রগতি হিসেবে রেকর্ড হয়। র্যাঙ্কিংয়ে এই উত্থান দেশের নারী ক্রীড়ার বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, টিগারেস এবং নারী ফুটবল দল উভয়ই এএফসি নারী এশিয়ান কাপের পরবর্তী রাউন্ডে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। উভয় দলই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং আরও উচ্চ স্তরের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে চায়।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ নারী ক্রীড়া উভয় ক্ষেত্রেই সীমিত সম্পদ ও প্রস্তুতির বাধা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। টিগারেসের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স এবং নারী ফুটবলের ঐতিহাসিক যোগ্যতা দেশীয় ক্রীড়া নীতির পুনর্বিবেচনা ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলবে।



