যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, চীনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে অ-বাজারভিত্তিক নীতি ও অযৌক্তিক আধিপত্যের কারণে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান শুল্ক শূন্য রেখে, ১৮ মাসের বিলম্বের পর ২৩ জুন ২০২৭ থেকে নতুন হার প্রয়োগ করা হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল চীনের অপ্রতিযোগিতামূলক চর্চা সংশোধন করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকে রক্ষা করা।
USTR-এর তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, চীন সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সমর্থন ও শ্রমিকদের বেতন দমন করে বাজারে আধিপত্য গড়ে তুলছে। এই নীতিগুলোকে অ-বাজারভিত্তিক ও আক্রমণাত্মক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য স্বার্থকে ক্ষতি করে। তদন্তের ফলাফল একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয় এবং তা শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
শুল্কের বর্তমান হার শূন্য, তবে ১৮ মাসের বিলম্বের পর হার বাড়ানো হবে। নতুন শুল্কের সুনির্দিষ্ট হার ২০২৭ সালের জুনের শেষের আগে কমপক্ষে ত্রিশ দিন আগে প্রকাশ করা হবে। এই সময়সীমা নির্ধারণের পেছনের কারণ সম্পর্কে USTR কোনো মন্তব্য করেনি।
এই তদন্ত ডিসেম্বর ২০২৪-এ, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শেষ মাসে শুরু হয় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে চালু রাখা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বে ইস্পাত, অটো ও অন্যান্য পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বাণিজ্য নীতি চালু করেছিল। তার শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প রক্ষা ও বাণিজ্য ভারসাম্য পুনঃস্থাপনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিল।
USTR-এর “সেকশন ৩০১” তদন্তে চীনের সেমিকন্ডাক্টর নীতি ‘বর্ধিত আক্রমণাত্মক ও ব্যাপক অ-বাজারভিত্তিক’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের বিশাল আর্থিক সহায়তা, বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপর অপ্রয়োজনীয় সুবিধা এবং শ্রমিকদের বেতন দমন অন্তর্ভুক্ত। এসব নীতি চীনের শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপ্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে বিবেচিত হয়েছে।
শুল্কের সময়সীমা সম্পর্কে USTR কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ১৮ মাসের বিলম্ব চীনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হতে পারে। এই সময়ে উভয় দেশ শীতলতা কমিয়ে একটি বিস্তৃত বাণিজ্যিক সমঝোতার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।
শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারীরা স্বল্পমেয়াদে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে। তবে একই সঙ্গে উচ্চ শুল্কের ফলে চীনের সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটলে, গ্লোবাল চিপ চাহিদা পূরণে দেরি হতে পারে, যা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
চীনের সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতাদের জন্য নতুন শুল্কের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের খরচ বাড়বে এবং বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য হতে পারে। একই সঙ্গে চীনের সরকার সম্ভবত দেশীয় চিপ উৎপাদন বাড়িয়ে শুল্কের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করবে, যা আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন গতিবিদ্যা তৈরি করতে পারে।
গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজারে এই শুল্ক নীতি একটি ঝুঁকি উপাদান হিসেবে কাজ করবে। চিপের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকলেও, বাণিজ্যিক বাধা সরবরাহ দিককে জটিল করে তুলবে। ফলে মূলধনী বিনিয়োগ, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে, এবং বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি-সামঞ্জস্যপূর্ণ পোর্টফোলিও গঠন করতে উদ্বুদ্ধ হবে।
ভবিষ্যতে শুল্কের হার নির্ধারিত হলে, তা চীনের রপ্তানি কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি উভয়ের উপর প্রভাব ফেলবে। উচ্চ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ত্বরান্বিত করতে পারে, তবে একই সঙ্গে ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। তাই নীতি নির্ধারকদের শুল্কের মাত্রা ও সময়সীমা নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিলম্বের সিদ্ধান্ত চীনের সেমিকন্ডাক্টর নীতি সংশোধনের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা গ্লোবাল চিপ বাজারে নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।



