মঙ্গলবার রাত এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কারাবো কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্সেনাল ১-১ সমতার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৮-৭ পার্থক্যে ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের নিয়মিত সময়ে দু’দলই এক গোল করে সমান থাকলেও, শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটই ফলাফল নির্ধারণ করে।
প্রথমার্ধে আর্সেনাল ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে। দলটি একাদশে আটটি পরিবর্তন সত্ত্বেও আক্রমণ চালিয়ে যায়, যা প্রতিপক্ষের রক্ষাকে কঠিন করে তোলে। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ওয়াল্টার বেনিটেজের ধারালো সেভের কারণে ক্রিস্টাল প্যালেসের শটগুলো বেশিরভাগই থেমে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনালের কোচ আর্তেতা গুরুত্বপূর্ণ তিনজন খেলোয়াড়কে পরিবর্তন করেন: বুকায়ো সাকা, মার্টিন ওডেগার্ড এবং ডেকলান রাইসকে মাঠে নামিয়ে দেন। এই পরিবর্তনগুলো আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে এবং ম্যাচের গতিপথে নতুন মোড় আনে।
৮০তম মিনিটে ক্রিস্টাল প্যালেসের ডিফেন্ডার ম্যাসেন্স লাক্রোয়ের নিজের ভুলে আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে আর্সেনাল প্রথমে এগিয়ে যায়। এই মুহূর্তে দলটি ১-০ সুবিধা পায় এবং ম্যাচের চূড়ান্ত পর্যায়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
যদিও আর্সেনাল এক গোলের সুবিধা পেয়েছিল, তবে যোগ সময়ের পঞ্চম মিনিটে মার্ক গুইহি ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার শট মারিয়ে সমতা ফিরিয়ে আনে। গুইহির এই গোলের ফলে স্কোর ১-১ হয়ে যায় এবং ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে পৌঁছায়।
পেনাল্টি শুটআউটে উভয় দলই প্রথম সাতটি শট নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে। উভয় দিকের খেলোয়াড়ই চাপের মধ্যে শান্তভাবে বলটি গলে পাঠায়, ফলে স্কোর ৭-৭ সমান থাকে। এই পর্যায়ে উভয় দলের গোলরক্ষকই বড় ভূমিকা রাখে।
অষ্টম শটে আর্সেনালের স্পটকিক বেনিটেজ রক্ষার চেষ্টায় ব্যর্থ হন, ফলে ক্রিস্টাল প্যালেসের লাক্রোয়ের শট গলে যায় এবং স্কোর ৮-৭ হয়ে যায়। এই মুহূর্তে আর্সেনালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
পরবর্তী শটে ক্রিস্টাল প্যালেসের লাক্রোয়ের শট কেপা আরিজাবালাগা রক্ষার চেষ্টায় থেমে যায়। আরিজাবালাগা বেনিটেজের মতোই দৃঢ় রক্ষা দেখিয়ে আর্সেনালের পেনাল্টি শুটআউটকে শেষ করে। ফলে আর্সেনাল পেনাল্টি শুটআউটে ৮-৭ পার্থক্যে বিজয়ী হয়ে ওঠে।
এই জয়ের মাধ্যমে আর্সেনাল কারাবো কাপের সেমিফাইনালে প্রবেশ করে এবং পরের রাউন্ডে চেলসির মুখোমুখি হবে। দুই দলের মধ্যে প্রথম লেগ ১৪ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় লেগ ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে।
সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিতে আর্সেনালের কোচ আর্তেতা দলকে কৌশলগত দিক থেকে পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে চেলসির আক্রমণাত্মক শক্তি এবং রক্ষণশীলতা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ম্যাচে সাফল্য অর্জনের পরিকল্পনা করবে।
আর্সেনালের এই জয় দলীয় ঐক্য এবং চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলাফল হিসেবে দেখা যায়। পেনাল্টি শুটআউটে বেনিটেজের গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং আরিজাবালাগার রক্ষা দলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যায়।
কারাবো কাপের সেমিফাইনালে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি হবে, যেখানে দুই দলই শিরোপা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। ভক্তদের জন্য এই ম্যাচটি হবে বড় আকর্ষণ, এবং উভয় দলের পারফরম্যান্স দেশের ক্রীড়া জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।



