গতকাল (মঙ্গলবার) দিল্লি, কলকাতা ও মুম্বাইতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও উপ‑হাইকমিশনের সামনে বিশাল প্রতিবাদে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। demonstrators মিশনের সামনে জোরালো স্লোগান ও ব্যানার তুলতে থাকে, তবে কোনো শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তি ধ্বংসের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। একই দিনে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দিল্লি, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও গুওয়াহাটি মিশনে ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এই ঘটনার পর তৎকালীন দিল্লি ও শিলিগুড়ির বাংলাদেশী কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ধ্বংসের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সম্পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার গঠনকালের পর থেকেই ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন বিদ্যমান। তবে এই টানাপড়েন স্বীকার করে উভয় দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এ জন্য উভয় পক্ষেরই সমঝোতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি ও ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড, পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক নেতাদের বিরূপ মন্তব্যের ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও তীব্রতর হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মা ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতীয় সীমান্তে পলায়ন রোধে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। একই সময়ে, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শীঘ্রই অবসরে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতি ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি ও সীমানা পারাপার সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা জানিয়ে পুনরায় সমন্বয় চেয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা সেন্টারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে কয়েকটি ভারতীয় মিশনের সামনে প্রতিবাদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবারের প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা মিশনের দরজা ও জানালায় স্লোগান ও চিত্র তুলে ধরে, তবে কোনো শারীরিক সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যায়নি। শনিবার রাত থেকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং কলকাতায় ভারতীয় কনস্যুলেটের সামনে আবারও প্রতিবাদী দল একত্রিত হয়।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় পারস্পরিক বিরোধের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। উভয় দেশের সরকারই এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কূটনৈতিক কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক অভিযোগের সমাধানে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে, ভিসা সেবা পুনরায় চালু করার শর্ত ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে বাণিজ্যিক ও পর্যটন সংযোগে বড় ধাক্কা না লাগে।
প্রণয় ভার্মা এবং রিয়াজ হামিদুল্লাহ উভয়ই একত্রে একটি সমন্বিত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ঘটনার মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করা যায়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ‑ভারত সম্পর্কের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক সংলাপ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা উভয় দেশের সরকারই ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।



