আফগানিস্তানের ক্রিকেটের তারকা রশিদ খান সম্প্রতি ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক কেভিন পিটারসেনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সাধারণ গাড়িতে যাতায়াত করা তার জন্য আর সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বুলেটপ্রুফ গাড়ি ছাড়া তিনি কোনো পথে বের হতে পারেন না, কারণ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি সর্বদা বিদ্যমান।
পিটারসেন রশিদের এই কথায় অবাক হয়ে প্রশ্ন তোলেন, কেন এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে। রশিদ শান্ত স্বরে ব্যাখ্যা করেন, সাধারণ গাড়িতে চড়া তার জন্য কোনো বিকল্প নয়; বুলেটপ্রুফ গাড়ি তার নিরাপত্তার একমাত্র গ্যারান্টি। তিনি বলেন, গাড়ির দরজা সব সময় ভিতর থেকে লক থাকে এবং কখনো কখনো লোকজন দরজা খুলে দেখার চেষ্টা করে, যা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
রশিদ জানান, তার বুলেটপ্রুফ গাড়ি বিশেষভাবে তার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং আফগানিস্তানের অনেক মানুষই নিরাপত্তার জন্য একই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে। দেশের অব্যাহত অস্থিরতা এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে এই ধরনের গাড়ি এখন সাধারণ দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাঙ্গারহারের যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে বড় হওয়া রশিদের ক্রিকেটের যাত্রা এক রূপকথার মতো। কিশোর বয়সেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন এবং দ্রুতই আফগানিস্তানের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হন। তার পারফরম্যান্স তাকে আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, ইংল্যান্ডের দ্য হানড্রেডসহ বিশ্বের শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে স্থান দান করে।
আজ রশিদ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন লিগে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার নামের বিজ্ঞাপনগুলো বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, যা তার আন্তর্জাতিক সাফল্যের প্রমাণ। তবু তিনি তার মূল দেশ থেকে দূরে থাকলেও, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্রভাবে অনুভব করেন।
দুবাইতে তার দ্বিতীয় বাড়ি গড়ে তোলার পর থেকে রশিদ সেখানে থেকে আফগানিস্তানে যাতায়াতের সুবিধা বাড়িয়েছেন। দুবাইয়ের আধুনিক অবকাঠামো এবং নিরাপদ পরিবেশ তাকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য সহজে প্রস্তুত হতে সহায়তা করে। তবে তার মূল বাড়ি থেকে দূরে থাকলেও, তিনি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং সতর্ক থাকেন।
রশিদ তার গ্ল্যামারাস জীবনযাপন সত্ত্বেও গাড়ির ইস্পাতের কঠিন আবরণকে নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি স্বীকার করেন, তার মতো বিশ্বব্যাপী পরিচিত খেলোয়াড়ের জন্যও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিকল্প নয়। বুলেটপ্রুফ গাড়ি তার জন্য শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক।
একটি সাক্ষাৎকারে রশিদ লতিফ, যিনি নিজেও ক্রিকেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, রশিদের তুলনা করে বলেন, রশিদ খান ওয়াসিম আকরামের চেয়ে বড় ক্রিকেটার। এই মন্তব্যটি রশিদের আন্তর্জাতিক সাফল্যকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে এবং তার খ্যাতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
রশিদের এই স্বীকারোক্তি এবং পিটারসেনের বিস্ময়কর প্রতিক্রিয়া দুজনের মধ্যে নিরাপত্তা ও ক্রীড়া জগতের পারস্পরিক সম্পর্ককে তুলে ধরে। রশিদ তার গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জোর দেন, যা তার ক্যারিয়ারকে কোনো ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
আফগানিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে রশিদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা সর্বদা বিদ্যমান, তাই বুলেটপ্রুফ গাড়ি তার জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, গাড়ির দরজা কখনো কখনো লোকজনের হাতে খুলে দেখার চেষ্টা হয়, যা তার নিরাপত্তা উদ্বেগকে বাড়িয়ে দেয়।
বুলেটপ্রুফ গাড়ি তৈরির জন্য রশিদ বিশেষভাবে নিজের জন্যই একটি কাস্টমাইজড মডেল অর্ডার করেছেন। এই গাড়ি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, দেশের অন্যান্য নাগরিকদের জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রশিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তার ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত না করে, বরং তাকে আরও দৃঢ়ভাবে তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। তিনি আন্তর্জাতিক লিগে অংশগ্রহণের সময় নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
রশিদের বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবং তার নিরাপত্তা সচেতনতা আফগানিস্তানের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। তার কথায় স্পষ্ট যে, নিরাপত্তা ছাড়া তার দৈনন্দিন জীবন কল্পনাও করা কঠিন।
রশিদ খান আজও তার গ্লোবাল স্টার স্ট্যাটাস বজায় রেখে, নিরাপত্তার জন্য ইস্পাতের গাড়ি ব্যবহার করে, এবং তার এই পদ্ধতি দেশের অন্যান্য খেলোয়াড় ও নাগরিকদের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে।



