দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সাইরিল রামাফোসা সম্প্রতি একটি মধ্যবর্তী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন, যেখানে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সংগঠিত অপরাধের অনুপ্রবেশ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলোতে ড্রাগ কার্টেল, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে অপরাধী সংযোগ এবং সাক্ষীর হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ রয়েছে। এই বিষয়গুলো দুইটি সমান্তরাল পাবলিক ইনকোয়ারির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রামাফোসা প্রতিষ্ঠিত কমিশন এবং কেপ টাউনের পার্লামেন্টের নিজস্ব প্যানেল।
দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সংস্থার মধ্যে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সন্দেহ ছিল, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রকাশিত তথ্যগুলো এই সন্দেহকে আরও দৃঢ় করেছে। জুলাই মাসে কুওয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পুলিশ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নলাহ্লা মখওয়ানাজি সরকারে সংগঠিত অপরাধের অনুপ্রবেশের অভিযোগ করেন, যা পরবর্তীতে দুইটি তদন্তের সূচনা করে।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসা এই অভিযোগের জবাবে অবসরপ্রাপ্ত সংবিধানিক আদালতের বিচারক এমবুইসেলি মাডলাঙ্গাকে কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করেন। একই সময়ে কেপ টাউনের পার্লামেন্টও একটি স্বতন্ত্র প্যানেল গঠন করে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উভয়ই সমান্তরালভাবে সাক্ষী শোনানো এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মখওয়ানাজি জুলাই মাসে প্রকাশিত তার অভিযোগের পর পুলিশ মন্ত্রী সেনজো মচুনুকে বিশেষ ছুটিতে পাঠান। মখওয়ানাজি দাবি করেন, মচুনু অপরাধ জগতের বড় বড় ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন এবং এজন্য তিনি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী এক্সক্লুসিভ ইউনিটটি বন্ধ করে দেন। মচুনু, যিনি রামাফোসার আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) দলের সিনিয়র সদস্য এবং প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র, এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
সেপ্টেম্বর মাসে মাডলাঙ্গা কমিশনের প্রথম সাক্ষী হিসেবে মখওয়ানাজি উপস্থিত হন এবং তিনি পরিস্থিতিকে “সন্ত্রাসবাদ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিছু গোষ্ঠী ভোটের মাধ্যমে নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার দখল করার চেষ্টা করছে। এই বক্তব্যের পর থেকে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তিন মাসের সাক্ষ্য শোনার সময়, তদন্তকারীরা একটি ড্রাগ কার্টেলের অস্তিত্ব ও তার রাজনৈতিক সংযোগের তথ্য প্রকাশ করেন। এছাড়া একটি ব্যবসায়ী, যিনি পরিকল্পিত হত্যার জন্য আদালতে দায়ী, তার সঙ্গে শীর্ষ সরকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কের সন্দেহও উত্থাপিত হয়েছে। এই সব তথ্য একত্রে একটি বৃহৎ অপরাধ নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়, যা নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
কমিশনের প্রথম মাসের শোনানিতে পুলিশ ক্রাইম ইন্টেলিজেন্সের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডুমিসানি খুমালোও সাক্ষ্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ড্রাগ ট্র্যাফিকিংয়ের একটি কার্টেল রয়েছে, যার নেতৃত্বে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি রয়েছে, যারা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এই তথ্যগুলো তদন্তের দিকনির্দেশনা পরিবর্তন করে এবং আরও গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
মাডলাঙ্গা কমিশনে সাক্ষ্য দেওয়ার পর একটি সাক্ষীকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা তদন্তের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং বিষয়টির গম্ভীরতা আরও স্পষ্ট করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত হত্যাকারী চিহ্নিত করা যায়নি।
এই ধারাবাহিক প্রকাশনা দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এএনসির শাসনকাল এবং রামাফোসার নেতৃত্বের প্রতি জনমত পরীক্ষা করা হবে, বিশেষ করে যদি তদন্তে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জড়িত পাওয়া যায়। পুলিশ মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে দেশের নাগরিকদের চাহিদা বাড়ছে।
রামাফোসা বর্তমানে মাডলাঙ্গা কমিশনের মধ্যবর্তী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন এবং পরবর্তী ধাপের নির্দেশনা দিচ্ছেন। পার্লামেন্টের প্যানেলও সমান্তরালভাবে সাক্ষ্য শোনাচ্ছে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করছে। উভয়ই শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে, যা সরকারী পদক্ষেপের ভিত্তি হবে।
জনসাধারণের দাবি অনুযায়ী, এই তদন্তের ফলাফল যদি সত্যিই অপরাধী কর্মকর্তাদের প্রকাশ করে, তবে তা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থার পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান পর্যায়ে, তদন্তের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বজায় রাখা অপরিহার্য, যাতে দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত থাকে।



