মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন কংগ্রেস সদস্য বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো দলকে নির্বাচনের আগে নিষিদ্ধ করা হলে ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এবং তা মৌলিক মানবাধিকার ও দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
চিঠি পাঠানো আইনপ্রণেতাদের মধ্যে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা, মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সিডনি কামলাগার-ডোভ, পাশাপাশি কংগ্রেসম্যান জুলি জনসন ও টম আর সুওজি অন্তর্ভুক্ত। মিকস হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য, হুইজেঙ্গা ও কামলাগার-ডোভ যথাক্রমে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে কাজ করেন।
চিঠিটি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নাম উল্লেখ না করে, আইনপ্রণেতারা বাংলাদেশের জাতীয় সংকটের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা স্বীকার করে, তবে একটি বড় দলকে বাদ দেওয়া মানবাধিকার ও দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকার অথবা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
এই আহ্বানটি এমন সময়ে করা হয়েছে যখন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী কাজের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনী কমিশন সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে, ফলে দেশের অন্যতম প্রাচীন দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে। একই সঙ্গে দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও তার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় দলের প্রধান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং অন্যান্য নেতার বিরুদ্ধে বহু হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ICC) মানবতাবিরোধী অভিযোগের অধীনে শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন আইনপ্রণেতারা উল্লেখ করেছেন যে, একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া ভোটারদের প্রতিনিধিত্বের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে। তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা সকল নাগরিকের অংশগ্রহণের অধিকার রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে, নির্বাচনের পূর্বে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আইনপ্রণেতারা এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখিত মূল দাবি হল, সরকারকে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা তাদের ইচ্ছামত ভোট দিতে পারে এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি রক্ষা পায়। আইনপ্রণেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশি সরকার এই বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করবে।
এই চিঠি ও তার বিষয়বস্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করেছেন। যদিও চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করা হয়নি, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচনী কমিশনের সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ, আগামী সপ্তাহে কীভাবে এগোবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। আইনপ্রণেতাদের এই আহ্বানকে সরকার কীভাবে গ্রহণ করবে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নির্ধারণের মূল বিষয় হয়ে থাকবে।



