দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ফিরে আসা অফিসার ও পুলিশ কর্মকর্তারা একটি জরুরি বৈঠকে অবৈধ অস্ত্র, সামাজিক মিডিয়ার গুজব, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের শর্তহীন জামিন এবং সীমান্ত নিরাপত্তার দুর্বলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই উদ্বেগগুলো ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং জুলাইয়ের চার্টার রেফারেন্ডামের পূর্বে সমাধান করা প্রয়োজন বলে তারা জোর দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ইনস্পেক্টর জেনারেল, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সুপারিনটেনডেন্ট ও অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা। তারা নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্মকর্তা এএমএম নাসির উদ্দিনের নির্দেশে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অফিসাররা উল্লেখ করেন, অবৈধ অস্ত্রের বাণিজ্য ও ব্যবহার বাড়ছে, যা নির্বাচনের সময় হিংসা ও অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া গুজবের ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা বাড়তে পারে, তাই তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে শূন্য সহনশীলতা গ্রহণের প্রয়োজন। এছাড়া, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের শর্তহীনভাবে জামিন দেওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে তুলতে পারে, তাই বিচারিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রথা বন্ধ করার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সীমান্তে অবৈধ পণ্য ও অস্ত্রের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা হুমকি বাড়াতে পারে। কর্মকর্তারা প্রস্তাব করেন, সমস্ত ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা যাতে ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
চিফ ইলেকশন কমিশনার নাসির উদ্দিন সকল কর্মকর্তাকে আইন সমানভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেন। তিনি ময়মনসিংহে সম্প্রতি হিন্দু নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ দিয়ে বললেন, “কমিউনাল উত্তেজনা বাড়তে পারে, তাই প্রশাসন ও পুলিশকে কমিউনাল সাদৃশ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা জবাবদিহি করতে পারব না।” তিনি যোগ করেন, “যদি আমরা সাহসী পদক্ষেপ নিই, আইনকে দৃঢ়ভাবে প্রয়োগ করি, তবে নির্বাচন কমিশন সবসময় পাশে থাকবে।”
বৈঠকের শেষে সকল অংশগ্রহণকারী একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা একমত হন, নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্রের পুনরুদ্ধার, তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং তালিকাভুক্ত অপরাধীদের জামিন বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে।
একই সময়ে, বাংলাদেশের উচ্চকমিশন নিউ দিল্লিতে কনসুলার ও ভিসা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপটি ভারতের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার পর নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চালু থাকবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় দল (জয়তা) ভেঙে গিয়ে তার সদস্য ও নেতারা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিতে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। দলটির সমাপ্তি ও সদস্যদের নতুন পার্টিতে স্থানান্তর রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করেছে।
একটি সামাজিক মিডিয়া পোস্টে একটি মায়ের কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়; তিনি বলেন, “আমার সন্তান দুপুরের খাবারও পাননি, তারা তাকে হত্যা করেছে।” এই মন্তব্যটি সম্প্রতি ঘটিত একটি হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, যা দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের পূর্বে সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা। কর্মকর্তারা একত্রে কাজ করে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ রোধ, সামাজিক মিডিয়ার গুজব নিয়ন্ত্রণ, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের শর্তহীন জামিন বন্ধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। এই উদ্যোগগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



