নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট দল চোটের পরিণতিতে প্রায় সম্পূর্ণ নতুন রোস্টার নিয়ে ১১ জানুয়ারি থেকে ভারতের দিকে রওনা হচ্ছে। তিনটি ওয়ানডে ম্যাচের পর ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। এই সফরে সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো চারজন খেলোয়াড়কে ডাক দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবারের ডাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে পেসার জেডেন লেনক্স, পেস বোলিং-অলরাউন্ডার ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, লেগস্পিন অলরাউন্ডার আদিত্য অশোক এবং দ্রুত গতি সম্পন্ন ফাস্ট বোলার মাইকেল রে। এদের প্রত্যেকেরই দেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই সুযোগ প্রদান করা হয়েছে।
ওয়ানডে স্কোয়াডের অধিনায়কত্বে আছেন মাইকেল ব্রেসওয়েল, যিনি চোটে আছেন মিচেল স্যান্টনারের পরিবর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। স্যান্টনার ওয়ানডে সিরিজে অংশ নেবেন না, তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই দু’টি সিরিজে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে আসছেন বেভন জ্যাকবস, টিম রবার্টসন, মার্ক চ্যাপম্যান এবং ম্যাট হেনরি। হেনরি ওয়ানডে সিরিজে অংশ নেবেন না, তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার উপস্থিতি দলের ব্যাটিং ও বোলিং ভারসাম্যকে শক্তিশালী করবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ-টোয়েন্টি লিগে ব্যস্ততার কারণে কেইন উইলিয়ামসন ওয়ানডে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত নয়; তিনি ডারবানের সুপারজায়ান্টসের হয়ে খেলবেন। একই সময়ে টম ল্যাথাম তৃতীয় সন্তানের জন্মের জন্য ছুটি নিয়ে দলের বাইরে রয়েছেন।
চোটের কারণে নাথান স্মিথ (পিঠ), উইলিয়াম ও’রর্ক (কাঁধ) এবং ব্লেয়ার টিকনার (পিঠ) স্কোয়াডে রাখা হয়নি। তাদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই সিরিজে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ওয়ানডে সিরিজে রাচিন রাবিন্দ্রা এবং ফাস্ট বোলার জ্যাকব ডাফি বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বাদ রাখা হয়েছে; তবে তারা টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে আসতে পারে। এই বিশ্রাম ব্যবস্থা তাদের দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্স রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
ওয়ানডে স্কোয়াডের ১৫ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় মাইকেল ব্রেসওয়েল (ক্যাপ্টেন), আদিত্য অশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেভন কনওয়ে, জ্যাক ফাউল্কস, মিচ হে (উইকেটকিপার), কাইল জেমিসন, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, ড্যারিল মিচেল, হেনরি নিকোলস, গ্লেন ফিলিপস, মাইকেল রে এবং উইল ইয়ং অন্তর্ভুক্ত। এই গোষ্ঠীটি ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচে অংশ নেবে।
টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে মিচেল স্যান্টনার (ক্যাপ্টেন), মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে (উইকেটকিপার), জ্যাকব ডাফি, জ্যাক ফাউল্কস, ম্যাট হেনরি, কাইল জেমিসন, বেভন জ্যাকবস, ড্যারিল মিচেল, জেমস নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রাবিন্দ্র, টিম রবার্টসন এবং ইশ সোধি অন্তর্ভুক্ত। এই দলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের সমন্বয় করা হয়েছে।
সিরিজের সূচি অনুসারে ওয়ানডে ম্যাচগুলো ১১, ১৪ এবং ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো ২১, ২৪, ২৬, ২৯ এবং ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। দুই দলের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা ক্রিকেটের উভয় ফরম্যাটে নতুন মুখের পারফরম্যান্স এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের নেতৃত্বের সমন্বয় কীভাবে কাজ করবে তা দেখার সুযোগ দেবে।



