নিউ ইয়র্কের এক প্রসিকিউটরের ইমেইল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৯০-এর দশকে জেফ্রি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করে আটটি ফ্লাইটে যাত্রা করেছেন। এই তথ্যগুলো এপস্টেইনের ফাইলের নতুন ব্যাচে অন্তর্ভুক্ত, যা মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।
ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্পের এই আটটি ভ্রমণের মধ্যে অন্তত চারটি ফ্লাইটে এপস্টেইনের সহযোগী ঘিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ডে রয়েছে, কারণ তিনি এপস্টেইনের অধীনস্থ কিশোরী মেয়েদের যৌন শোষণে সহায়তা করেছেন।
২০২৪ সালে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন যে তিনি কখনো এপস্টেইনের বিমান বা তার দ্বীপে উপস্থিত হননি। তবে প্রসিকিউটরের ইমেইলে ট্রাম্পের কোনো অপরাধের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি, এবং হোয়াইট হাউস রয়টার্সের মন্তব্যের জন্য কোনো উত্তর দেয়নি।
মার্চের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিজিও) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে এপস্টেইন ফাইলের কিছু নথিতে ট্রাম্প সম্পর্কে অপ্রমাণিত ও অতিরঞ্জিত দাবি রয়েছে। এই নথিগুলো ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-তে জমা দেওয়া হয়েছিল, তবে বিবরণে আরও কিছু বলা হয়নি।
ডিজিও আরও জোর দিয়ে বলেছে যে উক্ত দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং যদি কোনো সত্যতা থাকত তবে সেগুলো ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো। এই মন্তব্যটি ডিজিওর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রকাশিত হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বে এপস্টেইন সম্পর্কিত নথি প্রকাশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল এবং নভেম্বর মাসে পাস হওয়া আইনকে অবহেলিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল। পূর্বে প্রকাশিত নথিগুলোতে ব্যাপক রেড্যাকশন দেখা গিয়েছিল।
নতুন ব্যাচে প্রায় ৮,০০০টি ফাইল অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিং এবং প্রায় ৩০,০০০ পৃষ্ঠার নথি রয়েছে। এই নথিগুলোতে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও বিবরণ রয়েছে, যা পূর্বের রিলিজের তুলনায় বেশি বিশদ।
প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ট্রাম্পের এপস্টেইনের জেট ভ্রমণের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও গন্তব্যের তথ্যও রয়েছে, যদিও সেসব তথ্যের সঠিকতা ও প্রাসঙ্গিকতা এখনও তদন্তাধীন।
এই প্রকাশের পর ট্রাম্পের সমর্থকগণ নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর বিরোধীরা এপস্টেইনের নেটওয়ার্কের বিস্তৃত প্রভাবকে আবারো তুলে ধরছেন।
প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে কোনো মন্তব্য না পাওয়া সত্ত্বেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে এই তথ্যগুলো ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিজিওয়ের বিবৃতি এবং ট্রাম্পের সামাজিক মিডিয়া পোস্টের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করছে।
এপস্টেইন ফাইলের এই নতুন রিলিজের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে আরও নথি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।



