20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন কমিশন ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ অভিযান ও কঠোর নির্দেশনা দেন

নির্বাচন কমিশন ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ অভিযান ও কঠোর নির্দেশনা দেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলাকালীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর নির্বাচন ভবনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচনের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করেন।

সানাউল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে ইউনিফর্মধারী বাহিনী, বিশেষত পুলিশ, নৈতিক উচ্চতা বজায় রেখে কাজ করবে—এটাই কমিশনের প্রত্যাশা। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রতি অবমাননা বা বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তা রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করে। কমিশনের সমর্থনকে তিনি রাষ্ট্রের সমর্থন হিসেবে উপস্থাপন করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসি দ্রুততম সময়ের মধ্যে যৌথ অভিযান (জয়েন্ট অপারেশন) চালু করার নির্দেশ দেন। সানাউল্লাহ সতর্ক করে বলেন, সন্ত্রাসীরা যদি এলাকায় দাপট দেখায়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাদের দৌড়ের ওপর রাখতে হবে, না হলে সন্ত্রাসীরা জনগণকে দমিয়ে রাখবে। যৌথ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হল অবৈধ অস্ত্রের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গ্রেপ্তার।

সাধারণত নির্বাচনের আগে পাঁচ দিনের জন্য সেনা ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা ইসি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না এবং তা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে সানাউল্লাহ স্পষ্ট করেন, ওসি ও তার ঊর্ধ্বতন গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়া ছোটখাটো বদলিতে কমিশন হস্তক্ষেপ করবে না। তবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় নির্বাচনী কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আইনি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামিনপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আদালতের সত্যায়িত কপি প্রদান করলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এই নির্দেশনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

ইসি এই নির্দেশনা জারি করার মাধ্যমে নির্বাচনী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে চায়। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সম্মান ও সমর্থন না দিলে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা দুর্বল হবে।

এই সভা নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা নীতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা স্পষ্ট করে, যা নির্বাচনের পূর্বে এবং চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমকে নির্দেশনা দেবে। ভবিষ্যতে যদি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কোনো ধরণের হুমকি সৃষ্টি করে, তবে যৌথ অভিযান দ্রুততরভাবে কার্যকর হবে বলে আশা করা যায়।

নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর নির্দেশনা এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং স্বচ্ছ, নির্ভুল ভোট নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments