22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা, ভিসা সেবা বন্ধ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা, ভিসা সেবা বন্ধ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ

বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক গত সপ্তাহে একাধিক ঘটনার পর তীব্র উত্তেজনা পায়। শ্রীফ ওসমান হাদির হত্যার পর সন্দেহভাজনরা ভারতের সীমান্তে পলায়ন করে, যা দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক রায় ও ভিসা সেবা বন্ধের দিকে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ময়মনসিংহে হিন্দু যুবকের হিংসাত্মক হত্যাকাণ্ডের পর ভারতীয় শহরে বাংলাদেশবিরোধী প্রতিবাদে ভিসা কেন্দ্রগুলোতে বাধা সৃষ্টি হয়।

শ্রীফ ওসমান হাদি ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে নিহত হন, এবং তার হত্যাকারীরা ভারতীয় ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। এই তথ্য বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়, যেখানে নাগরিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।

প্রতিক্রিয়াস্বরূপ, বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোকে অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে একদিন পর, ২৩ ডিসেম্বর, ঢাকা কেন্দ্রের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়, যদিও চট্টগ্রামের কেন্দ্র এখনও বন্ধ রয়েছে।

ময়মনসিংহে হিন্দু যুবকের হিংসাত্মক মৃত্যু ১৮ ডিসেম্বরের ঘটনাটি ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশবিরোধী প্রতিবাদে রূপ নেয়। বিশেষ করে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো দিল্লি, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও গুআহাটি হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ করে, যেখানে ভিসা সেবা প্রদানকারী কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

এই প্রতিবাদগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার দিল্লি, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও গুআহাটির হাইকমিশন ও কনস্যুলার অফিসে ভিসা সেবা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপগুলো দু’দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই উত্তেজনা গত বছরের জুলাই-আগস্টে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অশান্তি থেকে উদ্ভূত। সেই সময়ে শীঘ্রই শাসন থেকে সরিয়ে নেওয়া শেখ হাসিনার সরকারকে অস্থায়ীভাবে ভেঙে ফেলতে চাওয়া গোষ্ঠী গুলোর সঙ্গে যুক্ত একটি গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, এবং শেখ হাসিনা ভারতীয় ভূখণ্ডে আশ্রয় নেন। একই সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ বাড়ার ফলে দু’দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শ্যাম কুমার উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভেঙে না গেলেও গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে এই দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো এই ভিত্তিকে চাপের মুখে ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের শীঘ্রই শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থনকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্নে ভারতের ধারাবাহিক সমর্থনকে অনেকেই দেশের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

দু’দেশের সরকার এখন কূটনৈতিক পথে সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে urged করা হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ না হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়। উভয় পক্ষই ধৈর্য্য বজায় রেখে পারস্পরিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভিসা সেবা পুনরায় চালু করা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করা এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্নির্মাণের দিকে পদক্ষেপ নেওয়া প্রত্যাশিত। এই প্রক্রিয়ায় উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments