19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ: ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ: ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

সকাল ১০টায় ঢাকা শহরের সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়‑সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ভারত থেকে ৫০,০০০ টন সেদ্ধ চাল আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদনের কথা জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কোনো গুরুতর অবনতি ঘটেনি; বরং উভয় পক্ষের জন্য স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা চলছে।

আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেশীর সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় না। ভারত, ভুটান, নেপাল‑এর সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব বজায় আছে, আর পাকিস্তানের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি যোগ করেন, দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রেই ভারত থেকে পাওয়া সুবিধা সবচেয়ে বেশি।

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বাণিজ্য ও রাজনীতির আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। “বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক, রাজনৈতিক সম্পর্কও তদ্রূপ হতে হবে,” তিনি বলেন। চালের ক্ষেত্রে, যদি ভারত থেকে না আনা হয়, তবে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করতে হবে, যার ফলে কেজি দরে অতিরিক্ত দশ টাকা পর্যন্ত খরচ হবে। তাই প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে চাল সরবরাহকারী ভারত থেকে ক্রয় চালিয়ে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত।

রাজনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় তা মাঝারি স্তরে রয়েছে এবং কোনো বড় অবনতি ঘটার সম্ভাবনা কম। পূর্বে ভারত থেকে চাল ও পেঁয়াজের আমদানি হয়েছে; পেঁয়াজের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে দেরি হওয়ায় দেশের বাজারে দাম বেশি ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে দশ টাকার নিচে কখনোই পৌঁছায়নি।

জাতীয় নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা তিনি স্পষ্ট করে না, তবে কয়েকদিনের মধ্যে কিছু তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এই বিষয়ে অবহিত আছেন এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

দেশের অভ্যন্তরে প্রচলিত ভারতবিরোধী প্রচার সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করে বলেন, এসব প্রচার দেশের সামগ্রিক মনোভাবকে জটিল করে তুলছে এবং তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি জোর দেন, সরকার এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাব কমাতে কাজ করবে।

আহমেদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে, একই সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারত‑বাংলাদেশ বাণিজ্যিক চুক্তি সম্প্রসারণ, সীমান্ত পারাপার সহজতর করা এবং স্বাস্থ্য‑সেবা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে, উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা চলবে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

সারসংক্ষেপে, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ভারতের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন, ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন এবং দেশের অভ্যন্তরে প্রচলিত বিরোধী মতামতের প্রভাব কমাতে সরকারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ তার বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমন্বিত ও স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রসর।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments