ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জন্য স্বাধীনপ্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানা আজ (২৩ ডিসেম্বর) নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পূর্বে বিএনপি থেকে পার্টি টিকিট না পেয়ে তিনি নিজের নাম নিবন্ধন করে ভোটারদের কাছে আবেদন জানাবেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে জোটের সঙ্গে করা চুক্তি এবং চারটি আসনে জোটের পার্টিকে স্থান দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। রুমিনের এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সারাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রায় ছয় লাখের কাছাকাছি ভোটার বসবাস করে। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি কৃষি ও শিল্পের সমন্বয়ে গঠিত এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখিয়েছে। রুমিনের স্বাধীনপ্রার্থিতা স্থানীয় রাজনৈতিক গঠনকে পুনর্সংগঠনের সম্ভাবনা রাখে।
বিএনপির সচিব সাধারণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে, জোটের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী চারটি আসনে জোটের পার্টিকে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং ওই আসনগুলোতে বিএনপি কোনো প্রার্থী দাখিল করবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, পার্টির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সতর্কতা রুমিনের মতো স্বতন্ত্রপ্রার্থীকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
একই সময়ে জামিয়াত-ই-উলমা-ই-ইসলামের কেন্দ্রীয় উপ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জোটের পার্টির প্রতিনিধিত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রুমিন ফারহানা জানান যে তিনি পার্টি থেকে পদত্যাগের পর স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী নিবন্ধন করবেন এবং নিকট ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ফরম সংগ্রহের কাজ শেষ করবেন। তিনি দুই-তিন দিনের মধ্যে আবেদনপত্র সংগ্রহের ব্যবস্থা নেবেন, যা তাকে পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিতে সক্ষম করবে।
রুমিনের আশাবাদ প্রকাশ পায় যে, তিনি এখনও স্থানীয় ভোটারদের সমর্থন ও ভালোবাসা পেতে সক্ষম হবেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, পূর্বে অর্জিত কাজের ভিত্তিতে তিনি ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিএনপি জেলা সদস্য এসএন তারুণ দে এবং আকতার হোসেনও এই আসনে স্বাধীনপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। উভয়ই পার্টির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও জোটের পার্টির প্রার্থী না থাকায় স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিএনপি ৩ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তালিকার পর থেকে স্থানীয় নেতারা প্রার্থী নির্ধারণের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো পার্টি প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে এই আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাব



