ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর প্রকাশ্যে জানালেন, বাংলাদেশ‑ভারত সম্পর্ক বর্তমানে গুরুতর অবনতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং ভবিষ্যতে আরও খারাপ হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন, যদিও কূটনৈতিক স্তরে কিছু সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে।
অর্থনৈতিক স্বার্থের দিক থেকে তিনি জোর দেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দেশের স্বার্থে অপরিহার্য। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতের কাছ থেকে ৫০,০০০ টন চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যা ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানি করার তুলনায় প্রতি কেজিতে দশ টাকা কম খরচে পাওয়া যাবে। এই চালের সরবরাহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারের মূল্য স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চালের পাশাপাশি, কিছুটা দেরি সত্ত্বেও ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, যা দেশের মৌসুমী চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। পেঁয়াজের এই সরবরাহের মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তাদের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা প্রত্যাশিত। এ ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপগুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে, দেশের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। অর্থ উপদেষ্টা নিজেও ভারতের হাইকমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, যেখানে উভয় পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও কখনো কখনো গুজব ও অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য শোনা যায়, তবু পরিস্থিতি এমন স্তরে পৌঁছায়নি যেখানে তা গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বহিরাগত বা দেশীয় কিছু গোষ্ঠীর ভারতবিরোধী মন্তব্যকে তিনি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ ধরনের বক্তব্যকে জাতীয় অভিব্যক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলে না গণ্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঝামেলা চায় না এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতা বজায় রাখতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ ভারতের, ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
ড. আহমেদ স্পষ্ট করেন, তিনি সরাসরি ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেননি, তবে ভারতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে প্রাসঙ্গ



