ইভারটন ক্লাবের প্রধান কোচ ডেভিড ময়েস সম্প্রতি রেফারি সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি পেশাদার গেম ম্যাচ অফিসিয়ালস (PGMO) কর্তৃক ক্লাবের সঙ্গে সংলাপের অনিচ্ছা এবং এই মৌসুমে ঘটিত বহু বিতর্কিত কলের ব্যাখ্যা না দিতে পারার কথা উল্লেখ করেছেন।
ময়েসের মতে, গত সোমবার ফুলহ্যাম দল নটিংহাম ফরেস্টের বিরুদ্ধে ম্যাচে জয়ী পেনাল্টি পেয়েছে, যা ডগলাস লুইজের কেভিনের ওপর স্পর্শের পর দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলছেন, সেই মুহূর্তে তিনি “অর্ধেক গলা গিলতে” বাধ্য হয়েছিলেন, কারণ একই ধরনের পরিস্থিতি ইভারটনের সঙ্গে ঘটলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।
এর ঠিক দুই দিন আগে, ইভারটন আরসেনালকে ঘরে হারিয়ে গিয়েছিল, যেখানে উইলিয়াম স্যালিবা থিয়ের্নো ব্যারির ওপর স্পর্শ করে পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল। ময়েস উল্লেখ করেন, এই ঘটনা ফুলহ্যামের পেনাল্টির সঙ্গে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে রেফারিরা ইভারটনের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ময়েস জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি আরসেনাল ম্যাচের সময় সরাসরি কোনো আপত্তি তুলেননি, তবে ফুলহ্যামের পেনাল্টি পরবর্তীতে দেখা দিলে তিনি রেফারিরা কেন এক ক্লাবকে সুবিধা দিচ্ছে আর অন্যকে দিচ্ছে না, তা প্রশ্নবিদ্ধ করতে বাধ্য হন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ক্লাবকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়, আর ইভারটন তার বিপরীত দিকে পড়ে।
ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে এই মৌসুমের শুরুর দিকে ঘটিত আরেকটি সমান ঘটনা ময়েসের স্মৃতিতে তাজা। সেই ম্যাচে ভিরগিল ভ্যান ডিকের ওপর একই রকম স্পর্শের পর পেনাল্টি শেষ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল, যদিও তা তৎক্ষণাৎ না হয়। এই উদাহরণটি ময়েসের মতে রেফারির অসঙ্গতি প্রকাশের একটি স্পষ্ট চিত্র।
ব্রেন্টফোর্ডের ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়া নিয়ে ইভারটন দল হতাশা প্রকাশ করেছে এবং ময়েস জানান, তারা এখনো অন্যান্য অনুরূপ সিদ্ধান্তগুলো পর্যবেক্ষণ করে চলেছে। তিনি যোগ করেন, এমন অনিয়মিততা দলের মনোবলকে প্রভাবিত করে এবং ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
রেফারি প্রধানদের সঙ্গে বিষয়টি তুলে ধরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় ময়েস স্বীকার করেন, তিনি এখনও নিশ্চিত নন যে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করবেন কিনা। তিনি বলেন, PGMO ক্লাবের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সহজ নয় এবং তারা এই ধরনের আলোচনায় আগ্রহী নয়।
ময়েসের মতে, রেফারিরা সম্ভবত কঠিন ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে সংলাপ এড়িয়ে চলছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রেফারিরা সমস্যাটির জটিলতা বুঝে সম্ভবত আলোচনা থেকে বিরত থাকছেন, যদিও তারা অবশ্যই তা করতে পারে।
এই সবের পরেও ময়েস জোর দিয়ে বলেন, ইভারটন দল পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মনোযোগ দিয়ে খেলবে এবং রেফারির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর না করে জয় অর্জনের চেষ্টা করবে। তিনি দলের প্রস্তুতি এবং কৌশলগত পরিকল্পনার উপর বেশি গুরুত্ব দেবার কথা উল্লেখ করেন।
ক্লাবের এই প্রকাশনা প্রিমিয়ার লিগে ক্লাব ও রেফারির মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার একটি নতুন দিক উন্মোচন করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনুরূপ অভিযোগগুলো ধারাবাহিকভাবে শোনা যাচ্ছে, যা রেফারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
PGMO এখনো ময়েসের মন্তব্যের ওপর কোনো সরকারি মন্তব্য করেনি এবং তাদের নীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ম্যাচের সিদ্ধান্তে ক্লাবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা সীমিত রাখে। এই অবস্থান রেফারির স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি ক্লাবের অভিযোগের সমাধানকে জটিল করে তুলতে পারে।
ইভারটনের পরবর্তী লিগ ম্যাচ শীঘ্রই নির্ধারিত, এবং কোচ ময়েস আশা করছেন দলটি বিতর্কিত রেফারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর না করে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে ফলাফল অর্জন করবে। তিনি শেষ পর্যন্ত বলছেন, “আমরা আমাদের খেলায় মনোযোগ দেব এবং ফলাফলকে আমাদের কাজের মাধ্যমে অর্জন করব।”



