প্রাক্তন রাজকুমার অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর, ১৯ নভেম্বর বুধবার মেট্রোপলিটন পুলিশের গন লাইসেন্সিং টিমের বাড়িতে উপস্থিতির পর স্বেচ্ছায় তার বন্দুক ও শটগান সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন। পুলিশ জানায়, উইনসরের রয়্যাল লজে গিয়ে ৬০ বছরের এক ব্যক্তিকে লাইসেন্স ফেরত দিতে অনুরোধ করা হয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, ওই দিন তাদের গন লাইসেন্সিং কর্মকর্তা উইনসরের ঠিকানায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় তার ফায়ারআর্মস ও শটগান সার্টিফিকেট হস্তান্তর করতে বলেছিলেন। এরপর সংশ্লিষ্ট অফিসাররা জানায় যে লাইসেন্সটি গ্রহণ করা হয়েছে, তবে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
অ্যান্ড্রু, যিনি শিকারের প্রতি আগ্রহী হিসেবে পরিচিত, কেন লাইসেন্সটি ত্যাগ করেছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে লাইসেন্স প্রত্যাহারের ফলে তিনি কেবল তত্ত্বাবধানে গন ব্যবহার বা পরিবহন করতে পারবেন, স্বতন্ত্রভাবে না। লাইসেন্স না থাকলেও তিনি অস্ত্রের মালিকানা বজায় রাখতে পারেন, তবে তা ব্যবহার করার জন্য অতিরিক্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
প্রাক্তন রাজকুমার আগামী বছর নর্ফোকে স্থানান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের একটি গোপনীয় সম্পত্তিতে বসবাস করবেন, যা তার বড় ভাই, রাজা চার্লস তৃতীয়ের ব্যক্তিগত মালিকানায়। এই স্থানান্তরটি তার শিরোনাম হারানোর পরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যান্ড্রু ২০২৩ সালে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সংযোগের কারণে শিরোনাম থেকে বাদ পড়েন। এপস্টেইনকে লিঙ্গভিত্তিক অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর তদন্ত চলমান। অ্যান্ড্রু এই সংযোগের বিষয়ে সবসময়ই অস্বীকার করে আসছেন।
বুকিংহাম প্যালেস অক্টোবর মাসে জানিয়েছিল যে অ্যান্ড্রু যত দ্রুত সম্ভব এবং বাস্তবসম্মতভাবে নর্ফোকে স্থানান্তরিত হবেন। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। স্থানান্তরের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এপস্টেইন ফাইলের অংশ হিসেবে অ্যান্ড্রুর একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে তিনি দুইজন নারীর কোলে শুয়ে আছেন। এই ছবি মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, তবে সরকারই উল্লেখ করেছে যে ফাইলের মধ্যে থাকা ছবি কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।
অ্যান্ড্রু এই ছবির উপস্থিতি নিয়ে আবারও তার নির্দোষতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং এপস্টেইন সংক্রান্ত কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জোর দিয়েছেন। তিনি অতীতে এপস্টেইনের সঙ্গে সামাজিক ও আর্থিক সংযোগের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তবে তা কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত নয়।
এই ঘটনার ফলে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনমত নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, গন লাইসেন্সের স্বেচ্ছা প্রত্যাহার এবং নর্ফোকে স্থানান্তর রাজপরিবারের সুনাম রক্ষার একটি কৌশল হতে পারে। তবে এটি কীভাবে ভবিষ্যতে রাজপরিবারের ভূমিকা ও জনসাধারণের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।
অ্যান্ড্রুর গন লাইসেন্স ত্যাগের পরবর্তী ধাপগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। মেট্রোপলিটন পুলিশ অতিরিক্ত কোনো তদন্ত চালাবে কিনা, অথবা তিনি কীভাবে তার অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করবেন, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই ঘটনাটি রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নীতির পুনর্বিবেচনার দরকার নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে অ্যান্ড্রু এবং তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো আইনগত বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলে, তা দেশের রাজনীতি ও মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।



