পেন্টাগন সম্প্রতি প্রকাশিত একটি খসড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, চীন মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত নতুন সাইলো ফিল্ডে একশের বেশি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) স্থাপন করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তি হল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণ, যা সাম্প্রতিক মাসে সাইলো নির্মাণের গতি এবং সেসব স্থানে সম্ভাব্য অস্ত্রের উপস্থিতি নির্দেশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ডিএফ‑৩১ মডেল, যা কঠিন জ্বালানিচালিত এবং দীর্ঘপরিসরের ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্ষমতা সম্পন্ন। পেন্টাগন অনুসারে, এই সাইলোগুলোতে মোট ১০০টিরও বেশি এমন ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
চীনের সরকার এই অভিযোগকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে, তারা কোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বা নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী নয়। চীনা দপ্তর যুক্তি দিয়েছে যে, দেশটি আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক নীতি অনুসরণ করে এবং অতিরিক্ত পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ করে না। তদুপরি, চীন পারমাণবিক পরীক্ষার বিরতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
পেন্টাগন উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান সময়ে চীন বিশ্বের যে কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তুলনায় তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে দ্রুততম গতিতে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করছে। এই মূল্যায়নটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশ্লেষকদের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছে, যারা চীনের সামরিক ব্যয় ও উৎপাদন ক্ষমতার ধারাবাহিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৬০০‑এর উপরে ছিল। তবে একই বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এই সম্ভাব্য বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মঙ্গোলিয়া সীমান্তে নতুন সাইলো স্থাপন চীনের পারমাণবিক কৌশলের ভৌগোলিক বিস্তারকে স্পষ্ট করে। এই অঞ্চলটি রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, মঙ্গোলিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এই ধরণের উন্নয়নের ফলে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একজন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, চীনের এই পদক্ষেপটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষত যখন চীন কোনো সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে ইচ্ছুক নয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, এ ধরনের উন্নয়ন ইউরোপ ও এশিয়ার নিরাপত্তা নীতি পুনর্গঠনকে বাধ্য করতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা বাড়াবে।
পেন্টাগন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবে এবং চীনের পারমাণবিক সক্ষমতার পরিবর্তন সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট প্রদান করবে। একই সঙ্গে, মঙ্গোলিয়া সরকারও এই সাইলোগুলোর নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



