ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর‑২ (মতলব) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রার্থী জানান, তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছে। বিশেষ করে বলা হচ্ছে যে, তার নামে মামলা দায়ের হয়েছে, ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং বিদেশে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ড. জালাল উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কোনো বাস্তবতা নেই।
সম্মেলনে তিনি দলের কর্মী ও ভোটারদের গুজবের ফাঁদে না পড়ে সত্যিকারের তথ্যের ভিত্তিতে ভোট দিতে আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের নেতাকর্মীরা এই গুজবের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং ভোটারদের ভুল তথ্য থেকে রক্ষা করার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।
ড. জালাল উদ্দিনের বক্তব্যের সময় মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উভয় উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রার্থীর দাবিকে সমর্থন করে বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ সহ্য করা যাবে না এবং সকল গুজবের মোকাবিলা করা হবে।
একই দিনে, অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত ড. জালাল উদ্দিন এবং তার পরিবারের পাঁচজনের ওপর বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আদালত জানায়, অভিযোগকারীরা জালাল উদ্দিনের অজানা সম্পদ অর্জন, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ স্থানান্তর এবং বিদেশে অর্থপাচার সংক্রান্ত দু’টি আবেদন দায়ের করে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাতে তারা দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে না পারে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে, ড. জালাল উদ্দিনের পরিবার এবং তার সহকর্মীরা জানিয়েছিলেন যে, তারা সব অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। তারা দাবি করেন, এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিএনপি দলের উচ্চপদস্থ নেতারা এই নিষেধাজ্ঞাকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপগুলো প্রার্থীর প্রচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, তারা আদালতের রায়কে সম্মান করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
চাঁদপুরের মতলব এলাকায় নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকে, তবে ড. জালাল উদ্দিনের প্রচার কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আসবে এবং তার দলীয় সমর্থনকে নতুনভাবে সংগঠিত করতে হবে। অন্যদিকে, গুজবের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিক্রিয়া ভোটারদের মধ্যে প্রার্থীর প্রতি আস্থা বাড়াতে পারে।
নির্বাচনের সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায়, উভয় দলই আইনগত ও রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছে। ড. জালাল উদ্দিনের ক্ষেত্রে, তিনি আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তার নাম পরিষ্কার করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, তিনি ভোটারদের আহ্বান করেন, গুজবের বদলে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালতের রায়ের আপিল, গুজবের উত্সের তদন্ত এবং নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। উভয় পক্ষই দাবি করছে যে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি ও তার সমর্থকরা আশা করছেন, গুজবের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য প্রচার এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ড. জালাল উদ্দিনের রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাকে প্রার্থীর দুর্নীতির ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।
সামগ্রিকভাবে, চাঁদপুর‑২ (মতলব) আসনে চলমান নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এখন আইনগত চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক গুজবের দ্বন্দ্বে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



