পাইরেট সক্রিয় গোষ্ঠী Anna’s Archive সম্প্রতি স্পটিফাইয়ের সঙ্গীত লাইব্রেরির বৃহৎ অংশ সংগ্রহের দাবি করেছে। গোষ্ঠী জানায়, তারা স্পটিফাইয়ের প্রায় ২৫৬ মিলিয়ন ট্র্যাকের মধ্যে ৮৬ মিলিয়নটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করেছে, যা মোট ট্র্যাকের ৯৯.৯% মেটাডেটা এবং শোনার পরিসংখ্যানের ৯৯.৬% কভারেজের সমান।
সংগ্রহিত ফাইলের মোট আকার প্রায় ৩০০ টেরাবাইট, যা ডিজিটাল সঙ্গীতের বিশাল ডেটা ভলিউমকে নির্দেশ করে। বর্তমানে পর্যন্ত শুধুমাত্র মেটাডেটা প্রকাশ করা হয়েছে; প্রকৃত অডিও ফাইলগুলো এখনও টরেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শেয়ার করার প্রস্তুতিতে রয়েছে।
গোষ্ঠী একটি ব্লগ পোস্টে উল্লেখ করেছে, এই উদ্যোগকে তারা সঙ্গীতের জন্য একটি “সংরক্ষণ আর্কাইভ” হিসেবে উপস্থাপন করেছে। যদিও স্পটিফাই বিশ্বব্যাপী সব সঙ্গীতের উৎস নয়, তবে এই ডেটা সংগ্রহকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা পয়েন্ট হিসেবে দেখেছে।
স্পটিফাই এই ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করেছে। কোম্পানি জানিয়েছে, তারা এই ধরনের ডেটা স্ক্র্যাপিং প্রতিরোধে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের জন্য সক্রিয়ভাবে নজর রাখবে।
স্পটিফাইয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা প্রথম দিন থেকেই শিল্পী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে পায়রেসি বিরোধে কাজ করে আসছে এবং শিল্পী অধিকার রক্ষায় শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে। এই অবস্থানকে তারা সঙ্গীত সৃষ্টিকর্তাদের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছে।
Anna’s Archive মূলত টেক্সট-ভিত্তিক ডেটা, যেমন বই, গবেষণা পত্র ইত্যাদি সংরক্ষণে মনোযোগ দেয়। তবে গোষ্ঠী এখন সঙ্গীতকে মানব জ্ঞান ও সংস্কৃতির একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, যা মিডিয়া প্রকার নির্বিশেষে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।
এই উদ্যোগের প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেখা যায়, স্পটিফাইয়ের বিশাল ডেটাবেস থেকে ডেটা স্ক্র্যাপিং করতে উচ্চ ক্ষমতার সার্ভার এবং স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্টের ব্যবহার প্রয়োজন। গোষ্ঠী দাবি করে, তারা এই প্রক্রিয়ায় কোনো অবৈধ প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেনি, বরং পাবলিকলি অ্যাক্সেসযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করেছে।
সংগৃহীত মেটাডেটা ট্র্যাকের শিরোনাম, শিল্পী, অ্যালবাম, রিলিজ তারিখ এবং প্লে কাউন্টের মতো বিশদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে। এই তথ্যগুলো গবেষক, ডেটা বিশ্লেষক এবং সঙ্গীত শিল্পের ইতিহাসবিদদের জন্য মূল্যবান সম্পদ হতে পারে।
টরেন্টের মাধ্যমে ফাইল শেয়ার করার পরিকল্পনা নিয়ে গোষ্ঠী উল্লেখ করেছে, এটি সঙ্গীতের দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্যতা নিশ্চিত করার একটি উপায়। তবে এই পদ্ধতি কপিরাইট আইন ও শিল্পী অধিকার নিয়ে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি করে।
স্পটিফাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য তারা ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ, অস্বাভাবিক ডেটা রিকোয়েস্ট সনাক্তকরণ এবং রেট লিমিটিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ স্ক্র্যাপিং প্রচেষ্টা রোধে সহায়তা করবে।
গোষ্ঠীর এই কাজের ফলে সঙ্গীত সংরক্ষণ ও অ্যাক্সেসের নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচিত হয়েছে। যদিও কপিরাইট সংরক্ষণের দিক থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, তবে ডেটা সংরক্ষণে প্রযুক্তির ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, Anna’s Archive-এর স্পটিফাই ডেটা সংগ্রহ সঙ্গীত শিল্পের ডিজিটাল রেকর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং কপিরাইট, ডেটা নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।



