ব্রিটিশ পরিচালক নিকোলাস হাইটনার ও নাট্যকার অ্যালান বেনেটের যৌথ প্রকল্প ‘দ্য কোরাল’ ২৫ ডিসেম্বর সনি পিকচারস ক্লাসিক্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে। ছবিটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একটি কাল্পনিক ইয়র্কশায়ার গ্রামে গায়ক সমাজের অবস্থা তুলে ধরে, যেখানে পুরুষ সদস্যদের অধিকাংশই সামরিক সেবায় গিয়ে গায়কের সংখ্যা কমে যায়।
হাইটনার ও বেনেটের পূর্বের সহযোগিতা ‘দ্য ম্যাডনেস অফ কিং জর্জ’, ‘দ্য হিস্ট্রি বয়স’ এবং ‘দ্য লেডি ইন দ্য ভ্যান’ চলচ্চিত্রে সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। যদিও ‘দ্য কোরাল’ মূলত একটি মূল স্ক্রিপ্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তবু এর গঠন ও সংলাপের ধরণে থিয়েটার রয়্যাল হেমার্কেট বা লন্ডন প্যালাডিয়ামের মঞ্চের ছাপ স্পষ্ট।
চিত্রের কাহিনী ১৯১৬ সালে ইয়র্কশায়ার গ্রাম ‘ব্রাউনফিল্ড’‑এ গায়ক সমাজের উপর কেন্দ্রীভূত, যেখানে যুদ্ধের কারণে পুরুষ কণ্ঠস্বরের অভাবে ব্যাখ্যানের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে ব্যাখ্যানের শীর্ষক বাখের ‘সেন্ট ম্যাথিউ প্যাশন’ রদ করা হয়, কারণ “তাদের যীশু যুদ্ধের জন্য গিয়েছেন” এমন রসিক মন্তব্যের মাধ্যমে সমাজের অবস্থা প্রকাশ পায়।
গায়ক সমাজের চেয়ারম্যান, ধনী ব্যবসায়ী অ্যালডারম্যান ডাক্সবুরি (রজার অলাম অভিনয়), চ্যালেঞ্জের মুখে একটি অপ্রত্যাশিত সমাধান খোঁজে। তিনি ড. হেনরি গুথ্রি (রালফ ফিয়েন্স)‑কে নতুন কন্ডাক্টর হিসেবে নিয়োগ করেন, যিনি সাম্প্রতিককালে ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছেন এবং পূর্বে অর্গানিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।
ড. গুথ্রি তার ক্যারিয়ারে বেশ কিছু বিতর্কের মুখে পড়েছেন; তিনি পূর্বে গির্জার অর্গান বাজিয়েছেন, তবে তার ব্যক্তিগত জীবনে কিছু সমস্যার কারণে সঙ্গীতের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। এখন তিনি গ্রামীয় গায়ক সমাজকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্বে আছেন, যদিও তার পদ্ধতি ও শৈলীতে কিছুটা অপ্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
চিত্রে রালফ ফিয়েন্সের পাশাপাশি রজার অলাম, মার্ক অ্যাডি, আলুন আর্মস্ট্রং, রবার্ট এমস, লিন্ডসে মার্শাল, রন কুক, আমারা ওকেরেকে, এমিলি ফেয়ার্ন, শন থমাস, জেকব ডুডম্যান, অলিভার ব্রিসকম্ব, টেলর উটলি এবং সাইমন রাসেল বেল সহ এক বিশিষ্ট কাস্ট যুক্ত হয়েছে। এই কাস্টের সমন্বয় চলচ্চিত্রের গুণগত মানকে উঁচুতে তুলে ধরেছে, যদিও সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে তারকা সমাবেশ সত্ত্বেও ছবিটি প্রত্যাশিত সুরে পৌঁছাতে পারেনি।
‘দ্য কোরাল’ ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের দৈর্ঘ্যের, রেটেড আর (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) এবং সনি পিকচারস ক্লাসিক্সের অধীনে বিতরণ করা হবে। ছবির সঙ্গীত ও পটভূমি নিকোলাস হাইটনারের পরিচালনায় তৈরি, আর অ্যালান বেনেটের স্ক্রিপ্টে ঐতিহাসিক ও নাট্যিক উপাদানের সমন্বয় দেখা যায়।
প্রথম পর্যালোচনায় ছবিটি কিছু সুরে ভুল নোটে হিট করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নাট্যিক পরিবেশ ও চরিত্রের গভীরতা প্রশংসিত হয়েছে, তবে গল্পের গতি ও সংলাপের পুনরাবৃত্তি দর্শকদের মনোযোগে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে সমালোচকরা মন্তব্য করেন।
চিত্রের দৃশ্যাবলী ও সেটিংকে থিয়েটারীয় শৈলীতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকদেরকে সরাসরি মঞ্চের অভিজ্ঞতা দেয়। তবে এই পদ্ধতি কিছু দর্শকের কাছে অতিরিক্ত নাট্যিক মনে হতে পারে, বিশেষ করে যারা সিনেমার স্বাভাবিক প্রবাহ প্রত্যাশা করেন।
‘দ্য কোরাল’ এমন একটি চলচ্চিত্র যা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার করে মানবিক সংগ্রামকে তুলে ধরতে চায়, তবে তার উপস্থাপনায় কিছু কাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে। তবু র



