আগামী শনিবার মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সূচনা হবে, যেখানে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ফস্টিন আরশঁজ তুয়াদেরা পুনর্চয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছয়জনের মুখোমুখি হবেন। ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘকাল ধরে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র রাজনৈতিক অশান্তি ও সশস্ত্র সংঘাতের শিকার হয়েছে; সরকার পরিবর্তন, বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের ফলে দেশীয় শাসনব্যবস্থা প্রায়ই দুর্বল অবস্থায় ছিল। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ফস্টিন আরশঁজ তুয়াদেরা ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন এবং তখন থেকে দেশের শীর্ষে অধিষ্ঠিত আছেন। তার প্রথম মেয়াদে তিনি জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তা পুনর্গঠনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন, তবে তার শাসনকালে মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগও উঠে আসে।
বিরোধীরা দাবি করেন তুয়াদেরা তৃতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আজীবন ক্ষমতার পথে অগ্রসর হচ্ছেন। তাদের মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সংবিধানিক পরিবর্তনকে ব্যবহার করছে, যা গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
২০২৩ সালে সংবিধানে করা সংশোধনী তুয়াদেরার তৃতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা এবং তার ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন। সংশোধনীটি প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সীমা ও পুনর্চয়নের শর্তাবলী পরিবর্তন করে, যা বিরোধী দলগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে।
তুয়াদেরার বিরোধী হিসেবে নির্বাচনে নাম নিবন্ধন করা ছয়জন প্রার্থী হলেন আনিসে জর্জ দোলোগুয়েলে, হেনরি-মারি দঁদ্রা, সার্জ জরি, এরিস্তিদ ব্রিয়াঁ রেবোয়া, এডি সিম্ফোরিয়েন কপারেকুতি এবং মার্সেলাঁ ইয়ালেমঁদে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে, যা ভোটারদের মধ্যে বিকল্পের সম্ভাবনা তৈরি করে।
আনিসে জর্জ দোলোগুয়েলে পূর্বে অর্থ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের পক্ষে সমর্থন পেয়েছেন। হেনরি-মারি দঁদ্রা পূর্বে আর্থিক মন্ত্রী ছিলেন, আর তার নীতি মূলত সামাজিক ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্য হ্রাসের দিকে কেন্দ্রীভূত। সার্জ জরি নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মোকাবিলায় কঠোর নীতি প্রস্তাব করেন। এরিস্তিদ ব্রিয়াঁ রেবোয়া মানবাধিকার সংরক্ষণে জোর দেন, এডি সিম্ফোরিয়েন কপারেকুতি কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেন, আর মার্সেলাঁ ইয়ালেমঁদে যুব নীতি ও শিক্ষা সংস্কারে মনোযোগী।
বিরোধী প্রার্থীরা তুয়াদেরার শাসনকালে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অবস্থা অবনতি হওয়ার কথা উল্লেখ করে, এবং সংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা ভোটারদের কাছে দাবি করেন যে নতুন নেতৃত্ব দেশের পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে সক্ষম হবে।
নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী কমিশন শনিবারের জন্য ভোটদান কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ভোটার তালিকা আপডেট করা হয়েছে এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে পর্যবেক্ষক দলকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যদি তুয়াদেরা পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে তার তৃতীয় মেয়াদে সংবিধানিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে কেউ জয়লাভ করেন, তবে সরকারে পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে, যা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতি পুনর্গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নির্বাচনের ফলাফলকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলাফল প্রকাশের পর দেশীয় ও বিদেশি নীতিনির্ধারকরা পরবর্তী কৌশল নির্ধারণের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচনী কমিশন ভোটের ফলাফল গণনা করে সরকারকে জানাবে, এবং নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান নির্ধারিত হবে। নতুন শাসনকালের নীতি ও পরিকল্পনা দেশের পুনর্গঠন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



