ইসরায়েল কংগ্রেস গত সপ্তাহে একটি আইনগত বিধানকে দুই বছরের জন্য বাড়িয়ে দেয়, যার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ করা যায়। এই সিদ্ধান্তের ফলে আল জাজিরা নেটওয়ার্কের ইসরায়েলীয় কার্যক্রম অব্যাহতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে, যদিও আইনটি এখন জরুরি অবস্থা না থাকলেও প্রয়োগ করা যাবে।
বিধানটি এপ্রিল মাসে অস্থায়ীভাবে গৃহীত হয়েছিল, তবে নতুন সংস্করণে বিচারিক তদারকি হ্রাসের জন্য বেশ কিছু সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ও যোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে এখন বিদেশি চ্যানেল বন্ধের এবং তাদের সরঞ্জাম জব্দ করার পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যদি তা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে বলে বিবেচিত হয়।
মে ২০২৪-এ ইসরায়েল আল জাজিরা নেটওয়ার্কের দেশীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, যা কংগ্রেসের নতুন আইন প্রয়োগের কয়েক সপ্তাহ পরের ঘটনা। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহু টুইটারে উল্লেখ করেন যে আল জাজিরা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ক্ষতি করেছে এবং অক্টোবর ৭ তারিখের হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি নতুন আইন অনুসারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরা নেটওয়ার্ক নেটানিয়াহুর মন্তব্যকে ভিত্তিহীন এবং বৈধ আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। তারা জানায় যে, নেটানিয়ুর উক্তি তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ও নেটওয়ার্কের সম্পদকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং এ ধরনের অভিযোগ তাদের সাংবাদিকতার স্বাধীনতা হ্রাসের প্রচেষ্টা। নেটওয়ার্কের বিবৃতি অনুযায়ী, তারা আইনি পথে সব ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
আইনের অধীনে আল জাজিরা ওয়েবসাইট ও টেলিভিশন চ্যানেল উভয়ই ইসরায়েলে নিষিদ্ধ, এবং এই নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে। অতীতেও ইসরায়েল আল জাজিরা নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করেছে; ২০১৭ সালে নেটানিয়ু জেরুজালেমের অফিস বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন এবং ২০২১ সালে গাজা অঞ্চলের অফিসে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানেন।
বহু আল জাজিরা সাংবাদিক ও তাদের পরিবারকে এই নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির ফলে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে মিডিয়া সংস্থার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, কর্মী ও তাদের আত্মীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইসরায়েলি সরকার এই পদক্ষেপকে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করে, এবং উল্লেখ করে যে, বিদেশি মিডিয়া কখনও কখনও রাষ্ট্রের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিকতা সংস্থাগুলি ইসরায়েলের এই আইনকে প্রকাশের স্বাধীনতার উপর আক্রমণ হিসেবে সমালোচনা করেছে।
আইনের সম্প্রসারণের ফলে ইসরায়েলি সংসদে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, বিশেষ করে বিচারিক তদারকি বাদ দেওয়া এবং জরুরি অবস্থা না থাকলেও আইন প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া নিয়ে। কিছু কংগ্রেস সদস্য আইনটির সংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং মানবাধিকার সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রয়োজনীয় বলে দাবি করছেন।
অন্তর্জাতিক পর্যায়ে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিডিয়া সম্পর্কের উপর নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। আল জাজিরা নেটওয়ার্কের কাতার সরকার ইতিমধ্যে ইসরায়েলের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খুলে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, এই আইনগত পরিবর্তন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক নির্দেশ করবে। যদি আইনটি পূর্ণভাবে কার্যকর হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিদেশি মিডিয়া নেটওয়ার্কের ওপরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অবশেষে, ইসরায়েলি সরকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মধ্যে এই বিষয়ে চলমান বিতর্কের ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে, নিরাপত্তা ও প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব। আইনটি দুই বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, এবং তার পরবর্তী পুনর্বিবেচনা বা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।



