সুইডেনের পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে মঙ্গলবার লন্ডনের একটি প্যালেস্টাইন সমর্থক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়। তিনি অ্যাসপেন ইনসিওরেন্সের দফতরের বাইরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবং একটি প্ল্যাকার্ড ধরে ছিলেন, যার ওপর লেখা ছিল “আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন বন্দিদের সমর্থন করি”। পুলিশ তার এই চিহ্ন প্রদর্শনের ভিত্তিতে তাকে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদের আইনের অধীনে আটক করেছে।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া অংশগ্রহণকারীরা জানান, থুনবার্গকে কেবল প্ল্যাকার্ড দেখানোর জন্যই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কোনো হিংসাত্মক কাজের সঙ্গে তার কোনো সংযোগ নেই। তারা যুক্তি দেন, সন্ত্রাসবাদের আইনের প্রয়োগে রাজনৈতিক মত প্রকাশকে দমন করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
ব্রিটিশ সরকার জুলাই মাসে “প্যালেস্টাইন অ্যাকশন” নামে পরিচিত সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। সরকারী বিবৃতি অনুসারে, এই গোষ্ঠী অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত ছিল এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল। নিষেধাজ্ঞার পর থেকে যুক্তরাজ্যে শত শত ব্যক্তি এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে।
গ্রেটা থুনবার্গের গ্রেফতার ঘটনার পর মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা সংস্থাগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করে, রাজনৈতিক মত প্রকাশকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে একসাথে গুচ্ছবদ্ধ করা স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। এই সংস্থাগুলো দাবি করে, আইনের অপব্যবহার নাগরিকদের বৈধ প্রতিবাদে অংশগ্রহণের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে।
ব্রিটিশ সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীগুলো এই ঘটনার ওপর আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা উত্থাপন করেছে। তারা বলছে, সন্ত্রাসবাদের আইনের অতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে সাধারণ প্রতিবাদকারীদেরও অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অধিক সংখ্যক নাগরিককে আইনি ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, থুনবার্গের মতো আন্তর্জাতিক পরিচিত ব্যক্তির গ্রেফতার আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদের আইনের পুনর্বিবেচনার দাবি বাড়াতে পারে। সরকার যদি এই বিষয়ে স্বচ্ছতা না দেখায়, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আরও কঠোর সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের রূপ রূপান্তর এবং আদালতে মামলার অগ্রগতি নজরে থাকবে। একই সঙ্গে, মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাজ্যের আইনসভা সংস্থার কাছে সন্ত্রাসবাদের আইনের সীমা নির্ধারণে স্পষ্টতা চাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, থুনবার্গের গ্রেফতার ঘটনা যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা নীতি ও নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নকে তীব্র করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যের ওপর নির্ভর করবে।



