অলিভার ফিনেল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে টুথ ফেয়ারি ট্র্যাকার নামের একটি অনলাইন সেবা চালু করেন, যা দন্ত-ফেয়ারির ঐতিহ্যকে ডিজিটাল রূপে উপস্থাপন করে। জেনারেশন আলফা, যাঁরা ছোটবেলা থেকেই ইন্টারনেট ও মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে পরিচিত, তাদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই প্ল্যাটফর্মটি শিশুর দন্ত-ফেয়ারি অভিজ্ঞতাকে ভিডিও‑ভিত্তিক রিয়েল‑টাইম আপডেটের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে।
সান্তা ট্র্যাকার জনপ্রিয় হওয়ার পরেও দন্ত-ফেয়ারির জন্য কোনো অনলাইন সমতুল্য না থাকায় ফিনেল এই ফাঁকটি পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের ভাগ্নের জন্য ব্যক্তিগতকৃত টুথ ফেয়ারি ভিডিও তৈরি করার সময় লক্ষ্য করেন, যে শিশুরা দাঁত হারায় তাদের জন্য একই রকম একটি ইন্টারেক্টিভ সেবা এখনো অনুপস্থিত।
টুথ ফেয়ারি ট্র্যাকার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পিতামাতা তাদের ইমেইল ঠিকানা প্রদান করলে, সাইটটি কিকি নামের দন্ত-ফেয়ারিকে কেন্দ্র করে একটি সিরিজ ভিডিও পাঠায়। কিকি হলেন এই সেবার মুখ্য চরিত্র, যিনি শিশুর হারিয়ে যাওয়া দাঁত সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নেন এবং তার যাত্রা শুরু করেন।
শিশু দন্ত হারানোর পর সন্ধ্যায় কিকি থেকে ধারাবাহিক ভিডিও আপডেট আসে; প্রথমে তিনি হেডকোয়ার্টার থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেন, পরে উড়ানের গতি ও রুটের তথ্যসহ ভ্লগ‑স্টাইল চেক‑ইন দেখায়, এবং মাঝে মাঝে সেলফি শেয়ার করে। প্রতিটি ভিডিওর মধ্যে কাউন্টডাউন থাকে, যা শিশুকে রাতের শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এই ধারাবাহিকতা শুধু দন্ত-ফেয়ারির রোমাঞ্চ বাড়ায় না, শিশুর রাতের রুটিনে ব্রাশিংয়ের গুরুত্বও জোর দেয়। ফিনেল বিশ্বাস করেন যে, কিকির রাতের আপডেটগুলো শিশুকে দাঁত পরিষ্কার করে শোবার জন্য উৎসাহিত করে, ফলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে ওঠে।
সকালের শেষ আপডেটের সময় কিকি শিশুকে অভিনন্দন জানিয়ে দেয় এবং পিলোর নিচে রাখা বিশেষ উপহারের ছবি দেখায়। এভাবে শিশুরা দন্ত-ফেয়ারির আসল পুরস্কারটি প্রত্যক্ষ করে, যা তাদের জন্য একটি সন্তোষজনক সমাপ্তি তৈরি করে।
প্রাথমিক লঞ্চের পর সাইটটি শীঘ্রই পুনঃডিজাইন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন সংস্করণে আরও খেলাধুলাপূর্ণ ইন্টারফেস এবং অতিরিক্ত ভিজ্যুয়াল উপাদান যুক্ত হবে, যা শিশুর দৃষ্টিকোণ থেকে অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, তবে মূল কার্যপ্রণালী অপরিবর্তিত থাকবে।
২০২৬ সালের দিকে ফিনেল আরও উন্নত সংস্করণ প্রকাশের লক্ষ্য রাখছেন, যেখানে কিকি প্রতিটি শিশুর নাম, শখ এবং ফটো ব্যবহার করে ব্যক্তিগতকৃত ভিডিও তৈরি করবে। এছাড়া, প্রতিটি হারানো দাঁতের জন্য কাস্টম সার্টিফিকেট প্রদান এবং মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি শেখানোর জন্য বিশেষ ভিডিও যোগ করা হবে।
প্রযুক্তি-চালিত এই উদ্যোগটি দন্ত-ফেয়ারির ঐতিহ্যকে আধুনিক ডিজিটাল অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত করে, যা শিশুরা বাড়িতে বসে সহজে উপভোগ করতে পারবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের দৈনন্দিন রুটিনে স্বাস্থ্যবিধি ও শিক্ষামূলক উপাদান সংযোজনের নতুন পথ খুলে দিতে পারে, এবং পরিবারগুলোর জন্য অনলাইন ও অফলাইন উভয় দিকেই স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করবে।



