এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া আজ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বাংলাদেশের সাংবাদিক ও প্রধান মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের ওপর সাম্প্রতিক ভিড়ের আক্রমণ, ধ্বংসযজ্ঞ ও অগ্নিকাণ্ডকে গম্ভীর সহিংসতার বৃদ্ধি হিসেবে নিন্দা করেছে। গিল্ডের মতে, এই ঘটনা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বতন্ত্রতা ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিউ এজের সম্পাদক ও এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি নুরুল কবিরকে ভিড়ের সদস্যরা শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছে। একই সঙ্গে, বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার-এর অফিসে ভিড়ের মাধ্যমে ভাঙচুর, জালানো এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
গিল্ডের মুখপাত্র বলেন, এই আক্রমণগুলো দেশের স্বাধীন মিডিয়ার ওপর চলমান হুমকি ও সহিংসতার ধারাকে “মরণাত্মক বৃদ্ধি” হিসেবে চিহ্নিত করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাংবাদিকদের মৃত্যুমুখী হুমকিগুলোও গিল্ডকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে, কারণ এসব হুমকি প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক সংলাপকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
গিল্ডের দাবি, মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অস্থায়ী সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিয়ে সাংবাদিকদের শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং আক্রমণের দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। গিল্ডের বিবৃতি জোর দিয়ে বলে যে, এই ধরনের আক্রমণ দক্ষিণ এশিয়ার মিডিয়া স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে নীরব করার প্রচেষ্টা।
বক্তারা আরও আহ্বান জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে সাংবাদিক ও মিডিয়া সংস্থা হুমকি, ভয় দেখানো বা শারীরিক হিংসার মুখোমুখি না হয়। নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনমত গঠনে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হবে।
এই ঘটনার পর, নিউ দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন সব কনসুলার ও ভিসা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশন এই পদক্ষেপকে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সেবা পুনরায় চালু না করার কথা জানিয়েছে।
একই সময়ে, দেশের রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। বাংলাদেশ জাতীয় দল (জেডিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে গেছে এবং এর বেশিরভাগ নেতা ও সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)-তে যোগদান করেছে। এই পরিবর্তনটি দেশের রাজনৈতিক গঠনকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেশের জনগণের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ এখন আবার প্রশ্ন তুলছে, নির্বাচনের সময়সূচি কি বজায় থাকবে কিনা। এই মন্তব্যগুলো বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জনমতকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা নিয়ে বিশ্লেষণকে উস্কে দেবে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে; আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও প্রেস স্বাতন্ত্র্য সংস্থাগুলোও এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গিল্ডের নিন্দা বিবৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গিল্ডের শেষ মন্তব্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে মিডিয়া স্বাধীনতা রক্ষা পায় এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। যদি এই আক্রমণগুলোকে যথাযথভাবে দমন না করা হয়, তবে তা দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



