ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI) আজ তার ৬৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ব্যবসা‑বাজারের উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছ শাসন, দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি এবং সময়োপযোগী নীতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। চেম্বারের প্রধান বক্তা উল্লেখ করেছেন যে ২০২৫ সালে দেশীয় অর্থনীতি ভূ‑রাজনৈতিক উত্তেজনা, শুল্ক বৃদ্ধি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার ঘাটতি, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইন‑শৃঙ্খলার অবনতি এবং শক্তি সংকটের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
এই চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে, সাময়িক সরকারের কিছু পদক্ষেপের ফলে সামান্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও, ব্যবসা‑সুবিধার পরিবেশ গঠনে স্বচ্ছ শাসন, দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, তিনি জোর দিয়ে বললেন। সভায় উপস্থিত DCCI সদস্যরা রাজনৈতিক ঐক্যের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতিতে সংস্কারের প্রস্তাব রেখেছেন।
বিশেষত, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করে স্বয়ংক্রিয়করণ আনা, বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ করা জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, লজিস্টিক্স সেক্টরের আধুনিকায়ন, শিল্পখাতে ধারাবাহিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, এবং আইন‑শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ব্যবসা‑বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
ধনসম্পদ ও ঋণ সাপোর্টের দিক থেকে, উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদের ঋণ সহজলভ্য করা এবং ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সরলীকরণ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের আর্থিক সহায়তা বিনিয়োগের গতি বাড়াতে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
DCCI প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (Economic Position Index – EPI) চালু করেছে, যা নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য তথ্য‑ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এই সূচকটি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে উৎপাদন ও সেবা খাতের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিবর্তন ট্র্যাক করবে এবং নীতি‑নির্ধারকদের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে ব্যবহারিক তথ্য সরবরাহ করবে।
চেম্বারের মতে, EPI এর মাধ্যমে শিল্পখাতের প্রবণতা, বিনিয়োগের প্রবাহ এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তদুপরি, এই সূচকটি আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের ব্যবসা‑পরিবেশের অবস্থান নির্ণয়ে সহায়তা করবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুযোগ চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।
সামগ্রিকভাবে, DCCI এর এই প্রকাশনা ব্যবসা‑সুবিধার পরিবেশ গঠনে স্বচ্ছ শাসন, রাজনৈতিক ঐক্য এবং নীতি‑নির্ভর বাস্তবায়নের গুরুত্বকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। চেম্বার ভবিষ্যতে এই দিকগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়বে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



