মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় একটি ট্রলি‑মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক যুবক নিহত এবং তার স্ত্রী‑কন্যা আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ছিল গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের দবির ডাক্তার বাড়ির সামনে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সংঘর্ষের ফলে তুহিন হোসেন (২৭) নামের যুবক প্রাণ হারিয়ে গেছেন।
তুহিন হোসেন গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামের সন্ধানী পাড়ার বাসিন্দা জামাল হোসেনের পুত্র এবং তিনি ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। তার পরিবারে স্ত্রী এবং দেড় বছরের কন্যা অন্তর্ভুক্ত। পরিবারটি স্থানীয় সমাজে পরিচিত এবং তার কর্মজীবন সম্পর্কে জানেন।
মৃত্যুবার্তা পাওয়া মুহূর্তে তুহিন হোসেন তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ধলা গ্রাম থেকে গাংনী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা মোটরসাইকেলে গমন করছিলেন এবং রাস্তায় গতি বজায় রাখছিলেন। পথে সাহারবাটি এলাকায় পৌঁছানোর সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতির একটি পাওয়ার টিলার ট্রলি তাদের পথে এলো।
ট্রলি এবং মোটরসাইকেল মুখোমুখি হয়ে ধাক্কা খায়, ফলে ট্রলির নিচে তুহিন হোসেন চেপে যায়। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়ে যান। তার স্ত্রী ও কন্যা গাড়ির সিটে বসে ছিলেন এবং ধাক্কা অনুভব করে আহত হন।
আহত স্ত্রী ও কন্যাকে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কন্যা হালকা আঘাত পেয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, আর স্ত্রী মাঝারি আঘাতের শিকার। তুহিন হোসেনের দেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হসপিটালের কাছে নিয়ে গিয়ে শোকসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।
গাংনী থানার ওয়ানডি অফিসার উত্তম কুমার দাস ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছায়। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়ি চালকদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ট্রলির গতি ও চালকের অবস্থা যাচাই করা হবে।
পুলিশের মতে, ট্রলি চালক এবং তুহিন হোসেনের গতি, রোডের অবস্থা এবং ট্রাফিক নিয়মের লঙ্ঘন ইত্যাদি বিষয়গুলো তদন্তের মূল দিক হবে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রলি ও মোটরসাইকেলের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করবে। এছাড়া, রাস্তায় নিরাপত্তা চিহ্নের উপস্থিতি ও রক্ষণাবেক্ষণও পর্যালোচনা করা হবে।
আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মৃতের দেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে। পরিবারকে শোকের সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, আহতদের চিকিৎসা খরচের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ধরনের ট্রলি‑মোটরসাইকেল সংঘর্ষ গাংনী অঞ্চলে মাঝে মাঝে ঘটতে দেখা যায়, বিশেষ করে রাস্তায় ট্রলি ও গাড়ির মিশ্রণ বেশি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পূর্বে ট্রলি চালকদের জন্য গতি সীমা ও রোড সিগন্যালের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করেছে। তবে এই ঘটনা দেখায় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়ন এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
স্থানীয় মানুষজন এই দুর্ঘটনা নিয়ে শোক প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা চেয়েছে। গাংনী বাজারের কাছাকাছি রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে এবং ট্রলি চালকদের প্রশিক্ষণ বাড়াতে দাবি করা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত চলাকালে, ট্রলি চালকের পরিচয় ও লাইসেন্সের অবস্থা যাচাই করা হবে। যদি কোনো লঙ্ঘন পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে রোডের অবস্থা, দৃশ্যমানতা এবং রাত্রিকালীন আলোও বিবেচনা করা হবে।
এই ঘটনার পর গাংনী উপজেলার প্রশাসন রোড সেফটি কমিটি গঠন করে রোডের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ট্রাফিক নিয়মের কঠোর প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে।



