22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঢাকা‑৯ এনসিপি প্রার্থী তাসনিম জারা নির্বাচনী তহবিলের জন্য জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছেন

ঢাকা‑৯ এনসিপি প্রার্থী তাসনিম জারা নির্বাচনী তহবিলের জন্য জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছেন

ঢাকা-৯ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, ২২ ডিসেম্বর তার যাচাইকৃত ফেসবুক প্রোফাইলে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য সরাসরি জনগণের সহায়তা চেয়েছেন। পোস্টে তিনি নিজের বিকাশ পার্সোনাল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করে, প্রশ্ন বা পরামর্শের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও প্রদান করেছেন।

প্রার্থীর পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা বা ভোটার প্রতি ১০ টাকা ব্যয় করতে পারে। তবে বাস্তবে প্রায়শই একক প্রার্থী ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করে, আর নির্বাচন কমিশনকে কেবল ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানায়। এই পার্থক্যকে তিনি আইন লঙ্ঘন ও মিথ্যা তথ্য প্রদান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তাসনিম জারা জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি এই ধরনের অসততা ও মিথ্যাভিত্তিক রাজনীতিতে অংশ নেবেন না এবং আইনগত সীমার বাইরে একটিও টাকা ব্যয় না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন, সীমিত বাজেটের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে অন্য কোনো উপায় নেই।

প্রার্থী আরও উল্লেখ করেন, যখন নির্বাচনের মোট ব্যয় দশ কোটি বা বিশ কোটি টাকার বেশি হয়, তখন নির্বাচিত হওয়ার পর চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি এই প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের সম্পদ থেকে সিংহভাগ সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, তাসনিম জারা এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। তিনি এই নির্দিষ্ট পরিমাণটি সরাসরি জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন।

অর্থ সংগ্রহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, তিনি নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিকাশ নম্বর উন্মুক্ত করেছেন। তাসনিম জারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রতিটি লেনদেনের রসিদ ও প্রমাণসহ হিসাব-নিকাশ জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, প্রার্থীর এই ধরনের সরাসরি তহবিল আহরণ প্রচলিত পার্টি-ভিত্তিক তহবিল সংগ্রহের তুলনায় নতুন পদ্ধতি। যদিও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে, তবু তহবিলের উৎস ও ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য তৃতীয় পক্ষের তদারকি প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাসনিম জারার এই উদ্যোগকে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের একটি উপায় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে, তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারণের নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এই পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনী তহবিলের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে, তবে তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও রিপোর্টিং প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাসনিম জারা আগামী সপ্তাহে তহবিল সংগ্রহের অগ্রগতি ও ব্যয়ের বিশদ জানাতে একটি অনলাইন সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই সেশনে তিনি সংগ্রহিত অর্থের পরিমাণ, ব্যয়ের ধরণ এবং প্রমাণসহ সব তথ্য সরাসরি উপস্থাপন করবেন।

প্রার্থীর এই উদ্যোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার আর্থিক দিককে আরও উন্মুক্ত করার একটি নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রার্থীরাও অনুসরণ করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা ও তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামোর শক্তিশালী প্রয়োগই মূল চাবিকাঠি হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments