নাইজেরিয়ার কেন্দ্রীয় প্লেটো রাজ্যে রবিবার রাতের দিকে ২৮ জন মুসলিম যাত্রীকে গুলিবিদ্ধ গোষ্ঠী গ্রেফতার করেছে। ভ্রমণকারীরা একটি বার্ষিক ইসলামিক সমাবেশে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন এবং বাসে গন্তব্যের পথে আক্রমণের শিকার হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত, যা ঘটনাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
আক্রমণটি বাসটি দুইটি গ্রামকে সংযোগকারী রাস্তায় চলার সময় ঘটেছে। অচেনা সশস্ত্র লোকজন হঠাৎ বাসের সামনে বাধা সৃষ্টি করে এবং যাত্রীদেরকে জোরপূর্বক নিলম্বিত করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আক্রমণকারী গোষ্ঠী দ্রুতই বাস থেকে যাত্রীদেরকে আলাদা করে নিয়ে যায়।
পরবর্তী দিনে, গ্রেফতারকৃতদের পরিবারগুলোকে র্যানসমের দাবি জানানো হয়। রাশির পরিমাণ ও পেমেন্টের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে পরিবারগুলো দাবি পূরণে চাপের মুখে রয়েছে। র্যানসমের দাবি করা গোষ্ঠীকে স্থানীয়ভাবে “ব্যান্ডিট” বলা হয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ও মধ্য নাইজেরিয়ায় অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে, এই ধরনের অপরাধের দায়ী গোষ্ঠীর পরিচয় স্পষ্ট না থাকলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর মন্তব্যে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের ধরা না পড়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
ব্যান্ডিটদের দ্বারা র্যানসমের জন্য অপহরণ করা নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা সমস্যার একটি ধারাবাহিকতা। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা, দারিদ্র্য এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থা এই গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে সহজ করে তুলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই ধরনের অপহরণে বহু পরিবার ভুগেছে এবং রাশি প্রদান না করলে প্রাণহানি ঘটেছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নগদ অর্থ হস্তান্তর করা অবৈধ হলেও, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে র্যানসমের চুক্তি অনুসারে নগদ প্রদান করা হয়। এই প্রথা অপরাধ গোষ্ঠীর আর্থিক প্রবাহ বজায় রাখে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের সম্ভাবনা বাড়ায়। সরকার এই ধরনের অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে বাস্তবায়নে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই ঘটনার সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইসলামিক বিদ্রোহের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। জিহাদি গোষ্ঠী ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সমস্যার থেকে এই অপহরণ আলাদা একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে পুনরায় আলোচিত হয়েছে, বিশেষ করে গত নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর। ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা সংকটের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে সামরিক সহায়তা প্রস্তাব করেছিলেন, যদিও পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ফেডারেল সরকার নিরাপত্তা সমস্যার স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে ধর্মীয় ভিত্তিতে কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব এবং কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য করা হয় না।
তথ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ ইদ্রিস সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উত্তেজনা মূলত সমাধান হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়বে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বনাঞ্চল ও দূরবর্তী এলাকায় গোপনীয় শিবিরে লুকিয়ে থাকা অপরাধী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে প্রশিক্ষিত ও সজ্জিত বন রক্ষী নিয়োগ করা হবে। এই রক্ষী বাহিনী সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এবং অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করতে সহায়তা করবে।
অধিক তদন্তের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো একত্রে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবারগুলো র্যানসমের দাবি পূরণ না হলে তাদের প্রিয়জনের নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য আইনি সহায়তা চাচ্ছে।



