পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রেমিত সিং, টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আকিও ওগাওয়া এবং টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
পিবিআই তদন্তের প্রধান কর্মকর্তা সৈয়দ সাজেদুর রহমান ৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে যে তারা টয়োটা ব্র্যান্ডের একক পরিবেশক নাভানা লিমিটেডের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতারণা চালিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, নাভানা লিমিটেডের গ্রাহকদের অর্ডারকৃত যানবাহনের উৎপাদন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যানুফ্যাকচারার ইনভয়েস’ সরবরাহ না করে নাভানার স্বাভাবিক আমদানি ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত করা হয়। এইসব কাজের ফলে নাভানা লিমিটেড আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং তার সুনাম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
অভিযোগের আরেকটি দিক হল, টয়োটা টুশো কর্পোরেশন নাভানা লিমিটেডের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট বাজার পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে একক পরিবেশনা ব্যবস্থা দুর্বল করার পরিকল্পনা করেছিল। এর ফলে নাভানার সঙ্গে টয়োটার ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই মামলার সূত্রপাত হয় ৯ জুলাই, যখন টয়োটা ব্র্যান্ডের পরিবেশক নাভানা লিমিটেডের শফিউল ইসলাম আদালতে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। শফিউল ইসলাম দাবি করেন যে, টয়োটা বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা নাভানার ব্যবসায়িক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিত প্রতারণা চালিয়েছেন।
পিবিআই তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, নাভানা লিমিটেডের যানবাহন আমদানি ও বিক্রয় প্রক্রিয়ায় কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা ও জরিমানার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নাভানার আর্থিক ক্ষতি এবং বাজারে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পেয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান জানান, প্রমাণ সংগ্রহের পর ৮ ডিসেম্বর তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং মামলার পরবর্তী শোনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার শোনানি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। শোনানিতে প্রমাণভিত্তিক বিবরণ উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়া হবে।
এই শোনানি টয়োটা ব্র্যান্ডের বাংলাদেশের বাজারে একক পরিবেশক হিসেবে নাভানা লিমিটেডের অবস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে। আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে নাভানা লিমিটেডের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে।
পিবিআই এই মামলায় উল্লেখ করেছে যে, প্রতারণা মূলত গ্রাহকের অর্ডারকৃত গাড়ির উৎপাদন ও সরবরাহে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় নথি না সরবরাহ এবং মিথ্যা বাজার প্রতিবেদন উপস্থাপন করে নাভানা লিমিটেডের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করা।
মামলায় উল্লেখিত সকল অভিযোগ আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালতের রায়ের পর যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই মামলায় টয়োটা গ্রুপের আন্তর্জাতিক শাখা টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের টয়োটা ব্র্যান্ডের বাজারে একক পরিবেশক নাভানা লিমিটেডের অবস্থান উভয়ই কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শোনানির ফলাফল টয়োটা গ্রুপের বাংলাদেশে ব্যবসায়িক নীতি, নাভানা লিমিটেডের বাজারে অবস্থান এবং গ্রাহকদের গাড়ি ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



