27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশিরীন পারভীন হক ও রাশেদা চৌধুরীর ‘মব ভায়োলেন্স’ প্রতিবাদে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা

শিরীন পারভীন হক ও রাশেদা চৌধুরীর ‘মব ভায়োলেন্স’ প্রতিবাদে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা

ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ-এ ২৩ ডিসেম্বর দুপুর ১১টায় ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি যৌথ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে সংবাদপত্রের সম্পাদক ও মালিকদের সংগঠন, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদ একত্রিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুনের ঘটনা, পাশাপাশি বাউল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হিংসা‑সংক্রান্ত ঘটনার প্রতি নিন্দা জানানো এবং সরকারের নীরবতার সমালোচনা করা।

সভায় নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক উপস্থিত থেকে সরকারের অকার্যকরী নীতি সম্পর্কে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মধ্যে ‘শুভবুদ্ধি’ যেন হারিয়ে গেছে, তবে এখনও কিছু সজাগ নাগরিক বেঁচে আছে যারা সক্রিয়ভাবে লড়াই করতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রতিবাদই যথেষ্ট নয়; বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা দরকার। হক আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে একটি ভয়াবহ সংকেত পাওয়া গেছে এবং সরকারের পরবর্তী নিষ্ক্রিয়তা দেশকে আরও বিপদের মুখে ফেলতে পারে।

প্রতিবাদ সভার শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁয়ের পাশের রাস্তায় মানববন্ধন করে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে একসাথে দাঁড়ান। এই মানববন্ধনটি ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সমাবেশের সমাপ্তি চিহ্নিত করে এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে একত্রে দৃঢ়তা প্রদর্শনের সুযোগ দেয়।

সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীও মতামত প্রকাশ করেন। তিনি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুনের ঘটনাকে শুধু বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপরও প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন। চৌধূরী প্রশ্ন তোলেন, কেন সরকার এই ধরনের ভ্যান্ডালিজমকে অনুমোদন দিচ্ছে এবং বর্তমান প্রশাসনের কাছে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জিজ্ঞেস করেন। তিনি অতিরিক্তভাবে বাউল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলাকে ‘অরাজকতা’ বলে বর্ণনা করেন।

চৌধূরী অতীতের একটি উদাহরণও তুলে ধরেন, যেখানে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষার বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সরকারী দফতরে ঘেরাও করেছিল এবং সরকার শেষ পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ১৪ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ না ভেবে ২০০ শিক্ষার্থীই আন্দোলন করে সরকারের নীতি পরিবর্তন করাতে সক্ষম হয়েছিল, তবে এখন ‘মব’ (মোব) শাসনের অধীনে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে গেছে।

প্রতিবাদে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও অংশ নেন। তিনি দেশের রাষ্ট্র কাঠামোর কেন্দ্রে ‘মবতন্ত্র’ের উত্থান এবং সরকারি দফতরের ভিতরে ‘মবক্রেসি’ (মোবের ক্রেসি) গড়ে ওঠার কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেন। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া দেশের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা একত্রে সরকারের নীরবতা ও অকার্যকরী নীতির বিরুদ্ধে একসাথে সঙ্কল্প প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, সরকার যেন ‘মব ভায়োলেন্স’ দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এছাড়া, তারা শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সংখ্যালঘু ও বৌদ্ধিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানায়।

এই প্রতিবাদ সভা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শিরীন পারভীন হক ও রাশেদা কে চৌধূরীর মতামত সরকারকে তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে রাখবে এবং ভবিষ্যতে ‘মব ভায়োলেন্স’ মোকাবিলায় নতুন নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সরকার এই সমালোচনার প্রতি সাড়া না দেয়, তবে জনমত ও নাগরিক সংগঠনগুলো আরও তীব্রভাবে প্রতিবাদে যুক্ত হতে পারে, যা দেশের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ করবে।

প্রতিবাদীরাও উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারকে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। শেষ পর্যন্ত, ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই সমাবেশটি দেশের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি সরকারের দায়িত্ববোধকে পুনরায় জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments