২০২৫ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্র বাজারে দশটি হিট সিনেমা একত্রে প্রায় চার হাজার কোটি রুপি আয় করে রেকর্ড ভেঙেছে। এই দশটি ছবিই বছরের মোট বক্স অফিসের প্রায় তৃতীয়াংশের বেশি দায়িত্বে ছিল। ফলে পুরো বছর জুড়ে সিনেমা শিল্পের আর্থিক চিত্র নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বছরের শুরুতে মোট ১,৫১৯টি বাংলা, হিন্দি, তামিলসহ বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র থিয়েটারে প্রকাশ পায়। এই সব ছবির সম্মিলিত আয় ১২,২৯১.২৭ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ষোলো কোটি ছয়শ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকারও বেশি।
বড় আয়ের অংশের বেশিরভাগই হাতে গোনা কয়েকটি ছবির কাছ থেকে এসেছে। শীর্ষ দশ সিনেমা একসাথে প্রায় চার হাজার কোটি রুপি সংগ্রহ করে, যা মোট আয়ের প্রায় ৩২ শতাংশের সমান।
এই দশটি ছবির মধ্যে অ্যাকশন, পিরিয়ড ড্রামা এবং রোমান্টিক থ্রিলার সবই অন্তর্ভুক্ত, ফলে বিভিন্ন দর্শকের পছন্দকে একসাথে সন্তুষ্ট করেছে। ইত্যাদি ডিজিটালের এই বছরের তালিকায় এই বৈচিত্র্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দশম ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া “ধুরন্ধর” সিনেমা শীর্ষে উঠে এসেছে। রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না, মাধবন, অর্জুন রামপাল এবং সঞ্জয় দত্তের শক্তিশালী কাস্টের কারণে ছবিটি মাত্র আঠারো দিনে ৮৭৬ কোটি রুপি আয় করে। এই অর্জন তাকে বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে “কানতারা: চ্যাপ্টার ১”। ১২৫ কোটি রুপি বাজেটের এই ছবিটি প্রায় ৮৫২ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে এবং রীতিমতো রিষভ শেঠির পরিচালনায় দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। অভিনয়, গল্প এবং ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় সমালোচকরা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
তৃতীয় স্থানে “ছাবা” রয়েছে, যা ফেব্রুয়ারি ১৪ তারিখে মুক্তি পায়। ভিকি কৌশল ও রাশমিকা মান্দানার প্রধান ভূমিকায় ছবিটি প্রায় ৮০০ কোটি রুপি আয় করেছে। বছরের শুরুতে এই রোমান্টিক ড্রামা বক্স অফিসে দারুণ সাড়া পেয়েছে।
চতুর্থ স্থানে “সাইয়ারা” নামের রোমান্টিক ছবি রয়েছে, যা মোহিত সুরির পরিচালনায় তৈরি। নতুন দুই অভিনেতার সঙ্গে ছবিটি দর্শকের মন জয় করেছে এবং তালিকায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। এই সিনেমা রোমান্সের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে একটি বিরল সফলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শীর্ষ দশের বাকি ছয়টি ছবিও উল্লেখযোগ্য আয় অর্জন করেছে, যদিও তাদের আয় ধূসর সীমার মধ্যে রয়েছে। এই ছবিগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক নাটক, কমেডি এবং অ্যাকশন থ্রিলার অন্তর্ভুক্ত, যা মোট আয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বছরের ডেটা থেকে দেখা যায় যে বড় বাজেটের হিট সিনেমা এবং মাঝারি বাজেটের ভাল কন্টেন্ট উভয়ই বক্স অফিসে সমানভাবে সফল হয়েছে। দর্শকের পছন্দের বৈচিত্র্য এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় এই ফলাফলে সহায়তা করেছে।
সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালের বলিউড বক্স অফিসের রেকর্ড দেখায় যে শিল্পটি আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী এবং বিভিন্ন ধরণের চলচ্চিত্রে সমানভাবে সাড়া পেতে সক্ষম। ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় কন্টেন্টের প্রত্যাশা করা যায়, যা দর্শকের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।



