ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর – জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান গত সোমবার সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থতা দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এই ব্যর্থতার ফলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার প্রকাশনাগুলোর কার্যালয়ে সশস্ত্র আক্রমণ ঘটেছে।
প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার উভয়ের অফিসে গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পরের দিনই, অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার রাতে, ভাঙচুর এবং দহনের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা জানালাবিহীনভাবে প্রবেশ করে, সম্পত্তি নষ্ট করে এবং শেষ পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
ডেইলি স্টারের অফিসে ঘটনার পর, কয়েক শ গজ দূরে অবস্থিত প্রথম আলোর কার্যালয়েও একই রকম ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হয়। উভয় স্থানে লুটপাটের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ফলে বড় পরিমাণে নথি ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার পেছনের প্রেরণা সম্পর্কে আইরিন খান মন্তব্য করেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর জনমতকে উত্তেজিত করে কিছু গোষ্ঠী মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ চালিয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের সহিংসতা সাংবাদিক ও সম্পাদকদের ওপর ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য বহন করে।
সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রে সরকারের ওপর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। তারা দাবি করেন, সরকারকে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং মিডিয়ার ওপর আক্রমণকারী গোষ্ঠীর দায়িত্ব নির্ধারণে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে।
সম্পাদক পরিষদ ও নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব) যৌথভাবে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের শেষে অংশগ্রহণকারীরা সোনারগাঁও হোটেলের সামনের রাস্তায় মানববন্ধন গঠন করে, যা মিডিয়া কর্মীদের প্রতি সমর্থন ও সংহতির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
আইরিন খান উল্লেখ করেন, সরকারের দায়িত্ব হল এমন কোনো ঘটনার উৎস চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের আইনি দায়িত্বে টানা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
মিডিয়া সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছে। তারা দাবি করে, সরকারকে অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইনগত কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত একাধিক রাজনৈতিক নেতা সরকারের বর্তমান নীতি সমালোচনা করেন এবং নির্বাচনের আগে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের দাবি করেন।
এই আক্রমণগুলো দেশের গণমাধ্যমের ওপর আস্থা ক্ষয় করে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, যদি সরকার দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত না করে, তবে মিডিয়া সংস্থাগুলোর ওপর আক্রমণ বাড়তে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ঘটনাস্থলে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকগণ বাংলাদেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সরকারকে মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন।



