19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধদুবাই থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে চার যাত্রীর ব্যাগে ৩০ লাখ টাকার সিগারেট ও...

দুবাই থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে চার যাত্রীর ব্যাগে ৩০ লাখ টাকার সিগারেট ও নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম জব্দ

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত রাত ৯ টার কাছাকাছি দুবাই থেকে আসা চার যাত্রীর লাগেজে ৮৬৭ কার্টন সিগারেট এবং ৫০ পিস নিষিদ্ধ রং‑ফর্সা গৌরী ক্রিম পাওয়া যায়। জব্দকৃত সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকার বেশি, আর ক্রিমটি পাকিস্তানে উৎপাদিত এবং বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ।

বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লোডিংয়ের সময় ব্যাগে অস্বাভাবিক পরিমাণের সিগারেট ও রঙিন ক্রিমের উপস্থিতি লক্ষ্য করে তল্লাশি করা হয়। সিগারেটের পরিমাণ একক যাত্রীর অনুমোদিত সীমা—একটি কার্টন—এর চেয়ে অনেক বেশি, ফলে তা অবৈধ বলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গৌরী ক্রিমের প্যাকেজিংয়ে কোনো বাংলা সতর্কতা লেবেল না থাকায় তা আমদানি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে।

জব্দকৃত চার যাত্রীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে: রেজাউল করিম, মিজানুর রহমান, রিদওয়ানুল হক এবং মো. সালাউদ্দিন। তারা US‑Bangla Airlines এর দুবাই‑চট্টগ্রাম ফ্লাইটে রাতের দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছেছিলেন। কাস্টমসের মতে, এই যাত্রীরা ব্যাগে অতিরিক্ত সিগারেট ও নিষিদ্ধ ক্রিম বহন করে আনা নিয়ম ভঙ্গ করেছে।

গৌরী ক্রিমের বিষয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ২০২০ সালে আটটি রঙ‑ফর্সা ক্রিমে পারদ ও হাইড্রোকুইনোনের ক্ষতিকর মাত্রা শনাক্ত করে বিক্রি, বিপণন ও আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এসব পদার্থের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার ত্বকের রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গৌরী ক্রিম ওই আটটি নিষিদ্ধ পণ্যের মধ্যে একটি।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল উল্লেখ করেন, জব্দকৃত সিগারেটের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকা। সব জব্দকৃত সামগ্রী চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের হেফাজতে রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কাস্টমস নীতি অনুযায়ী, একজন যাত্রী এক কার্টন সিগারেট পর্যন্ত কোনো শুল্ক ছাড়াই আনতে পারে, তবে তার বেশি হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হয়। এছাড়া, শর্তযুক্ত আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে প্যাকেজে বাংলায় “ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর” লিখিত সতর্কতা থাকতে বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকে।

গৌরী ক্রিমের অবৈধ আনা প্রথমবার নয়। পূর্বে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একই ধরনের পণ্য জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এই ধারাবাহিক লঙ্ঘনকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

অবৈধ পণ্য জব্দের পর প্রক্রিয়া অনুসারে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জব্দকৃত সামগ্রীকে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করবে। সেখানে প্রমাণ সংগ্রহের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে জরিমানা, শাস্তি বা পণ্য নষ্ট করা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। জড়িত যাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলে আদালতে তাদের শোনার সুযোগ থাকবে।

এই ঘটনাটি কাস্টমসের সতর্কতা ও নিয়মের প্রতি জনসাধারণের সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়িক যাত্রীদেরকে আমদানি নিয়মাবলী মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ পণ্য বহন না করার ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া জরুরি।

সামগ্রিকভাবে, দুবাই থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জব্দকৃত সিগারেট ও গৌরী ক্রিমের ঘটনা কাস্টমসের কার্যকর তদারকি এবং দেশের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে আরও কঠোর নজরদারি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments