18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের শহরে হামলা করে, জেরুজালেমে চারতলা বাড়ি ধ্বংস

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের শহরে হামলা করে, জেরুজালেমে চারতলা বাড়ি ধ্বংস

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সোমবার পশ্চিম তীরের কয়েকটি শহরে প্রবেশ করে, জেরুজালেমের পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি চারতলা আবাসিক ভবন ধ্বংস করে। অপারেশনের সময় স্টান গ্রেনেড ও তীর গ্যাস ব্যবহার করা হয়, ফলে এলাকায় বিশাল গোলমাল এবং ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

পশ্চিম তীরের সিলওয়ান জেলায় ওয়াদি কাদ্দুম পাড়ায় অবস্থিত ১৩টি ইউনিটের এই ভবনটি তিনটি বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই ধ্বংসকাজটি বছরের সর্ববৃহৎ একটিতে পরিণত হয়েছে।

বিল্ডিংটি ধ্বংসের সময় ইসরায়েলি সৈন্যরা পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোকে বন্ধ করে, এলাকায় ব্যাপকভাবে উপস্থিতি বজায় রাখে এবং আশেপাশের বাড়ির ছাদে নিরাপত্তা কর্মী স্থাপন করে। এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

অপারেশনের সময় একটি যুবক ও একটি কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সূত্রগুলো জানায় যে তারা অপারেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, এই বাড়ি নির্মাণ অনুমতি ছাড়া করা হয়েছে, তাই ধ্বংসের আদেশ জারি করা হয়। তবে প্যালেস্টাইনি পক্ষের মতে, ইসরায়েলি পরিকল্পনা নীতি কঠোর হওয়ায় অনুমতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

প্যালেস্টাইনি অধিকার সংস্থা দাবি করে যে, অনুমতি না দেওয়ার নীতি একটি পরিকল্পিত কৌশল, যা প্যালেস্টাইনি জনগণকে তাদের ভূমি থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নিতে চায়। তারা এটিকে জাতিগত শুদ্ধিকরণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা ক্যাবিনেট সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, ফলে এই বছর মোট স্বীকৃত বসতি সংখ্যা ৬৯-এ পৌঁছায়। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে হলেও সরকার বসতি সম্প্রসারণের ধারাকে অব্যাহত রাখে।

জেরুজালেমের প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের গভার্নরেট এই ধ্বংসকাজকে প্যালেস্টাইনি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি এবং শহরের মূল জনসংখ্যা খালি করার একটি নীতির অংশ বলে নিন্দা করে। গভার্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন ধ্বংসকাজের মাধ্যমে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে বসতিবাদীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

গভার্নরেটের আরও একটি মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যে কোনো ধ্বংসকাজ যা বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়, তা স্পষ্টভাবে দখল নীতি অনুসরণ করে এবং সেটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

এই ঘটনাটি অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, কারণ প্যালেস্টাইনি নেতৃত্বের সঙ্গে ইসরায়েলি সরকারী নীতি ইতিমধ্যে তীব্র বিরোধে জড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতে এই ধ্বংসকাজের পরিণতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো থেকে আরও সমালোচনা ও চাপের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

অধিকন্তু, জেরুজালেমের পৌরসভা এই ধ্বংসকাজের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেছে, যদিও সম্পূর্ণ বিবরণ এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই ধ্বংসকাজের ফলে সৃষ্ট মানবিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিশ্লেষণ সময়ের সাথে সাথে স্পষ্ট হবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments