ঢাকা শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় চলা নিরাপত্তা অভিযান শেষে, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার সংবাদপত্রের কারওয়ান বাজার অফিসে হামলায় জড়িত বলে সন্দেহভাজন ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারের মাধ্যমে মোট ২৮ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া শাখা আজ প্রকাশিত একটি প্রেস রিলিজে এই তথ্য জানায়। রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিটেকটিভ শাখা (ডিবি) ও তেজগাঁও থানা সমন্বিতভাবে এই গ্রেফতারের কাজ সম্পন্ন করেছে।
ডিবি অনুসারে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে মোট নয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে, আর তেজগাঁও থানা থেকে অতিরিক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এভাবে মোট ১১ জনের গ্রেফতার সম্পন্ন হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের নাম ও বয়স নিম্নরূপ: আবদুর রহমান (৩০), মোঃ জান্নাতুল নায়েম (২১), মোঃ ফয়সাল (২৪), কুড়ি মোয়াজ বিন আবদুর রহমান (৩৩), জুবায়ের হোসেন (২১), মোঃ আলমাস আলী (২৯), জুলফিকার আলী সোরভ (২২), নিয়াজ মাহমুদ (২৮), মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম (২২), মোঃ হাশেম (২৬) এবং আরাফাত ইয়াসিন (২৯)।
ডিবি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার রাতের সময় ঘটিত হামলার ভিডিও রেকর্ডিং পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ভিড় গোষ্ঠী অফিসের জানালায় গুলি করে, জানালাগুলো ভেঙে দেয় এবং ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে সম্পত্তি নষ্ট করে।
ডিবি শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে অভিযুক্তদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে অভিযুক্তদের জমানত নির্ধারণ ও প্রাথমিক শুনানির প্রস্তুতি চলছে।
হামলার পটভূমি হিসেবে, গত বৃহস্পতিবার রাতের দিকে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কারওয়ান বাজার অফিসে এক বিশাল ভিড় গোষ্ঠী প্রবেশ করে, জানালা ভেঙে দেয়, দাহক পদার্থ ছুঁড়ে দেয় এবং অফিসের সামগ্রী লুট করে। এই ঘটনায় অফিসের কাঠামোগত ক্ষতি এবং কিছু কর্মীর ক্ষতি হয়েছে।
পুলিশের মতে, হামলার সময় সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাই, তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও ভিডিও বিশ্লেষণ ও সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহ করা হবে।
ডিটেকটিভ শাখা উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে একই রকম অপরাধ রোধে শহরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং সন্দেহভাজনদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
এই গ্রেফতারের মাধ্যমে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আশা করে যে, অপরাধের শিকড় উন্মোচিত হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। অবশিষ্ট সন্দেহভাজনদেরও শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে।



