গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে আজ অনুষ্ঠিত সংবাদসভার সময় বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, interim সরকার দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে প্রধান দায়িত্ব বহন করছে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকারকে গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় যথেষ্ট নয়।
মির্জা ফখরুলের মতে, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অস্থায়ী সরকারকে প্রথম কয়েক মাসে দক্ষতা প্রদর্শন করে দেশের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালানোর প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তবে তিনি বলেন, বাস্তবে তা অর্জিত হয়নি এবং শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
অধিকন্তু, তিনি সরকারকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে, নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব, এবং তা না হলে ফলাফল বৈধতা হারাতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি রূপান্তরকাল পার করছে, যেখানে কিছু সীমিত গোষ্ঠী দেশের প্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এই গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে তিনি “বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র” বলে বর্ণনা করেন, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
মির্জা ফখরুলের মতে, এই ষড়যন্ত্রের ফলস্বরূপ ওসমান হাদি নামের একজন কর্মীকে শহীদ করা হয়েছে। তিনি শহীদ হাদির আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেন এবং তার শহীদত্বকে দেশের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।
বিএনপি নেতার বক্তব্যে অতীতের শাসনব্যবস্থার কথাও উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের ফ্যাসিস্ট শাসন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষয় করেছে, যার ফলে দেশের উন্নয়ন পথে বড় ধাক্কা লেগেছে।
মির্জা ফখরুল আশাবাদী সুরে বলেন, শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর একটি নির্বাচিত সরকার ও সংসদ গঠন হবে, যা দেশের সঠিক পথে পরিচালনা করবে। তিনি নতুন সরকারের দায়িত্বকে দেশের উন্নয়ন, শাসনব্যবস্থা ও জনসাধারণের মঙ্গলের দিকে মনোনিবেশ করার কথা উল্লেখ করেন।
বিএনপি এই সমালোচনা মাধ্যমে অস্থায়ী সরকারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পার্টি দাবি করে, সরকারকে নির্বাচনের পূর্বে আইন শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
অন্যদিকে, সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতা প্রদান করার দাবি করে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভোটারদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের ফলে অস্থায়ী সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সরকার শৃঙ্খলা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তবে নির্বাচনের সময় বিরোধ ও অশান্তি বাড়তে পারে, যা দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রকে প্রভাবিত করবে।
নির্বাচনের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হলেও, সকল রাজনৈতিক দলকে একত্রে কাজ করে একটি ন্যায়সঙ্গত ও নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করতে হবে। মির্জা ফখরুলের মতে, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারকে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানানো হয়েছে। তারা দেশের শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট প্রস্তুত করবে, যা ভবিষ্যৎ সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষে, মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, দেশের রূপান্তরকালীন সময়ে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি রক্ষা পায় এবং দেশের উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়। তিনি সকল পক্ষকে আহ্বান জানান, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে।



