বাংলাদেশ ও জাপান গতকাল টেলিফোনিক আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এই চুক্তি বাংলাদেশকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পূর্বে তার রপ্তানি বাজারকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে এবং জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে গভীর করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা স্ক বশির উদ্দিন এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোটেগি তোষিমিতসু এই খসড়া নিয়ে সম্মতিতে স্বাক্ষর করেন। উভয় দেশই পরে নিজ নিজ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণাটি জানায়।
চুক্তির অধীনে, জাপান ৭,৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুমতি দেবে, যার মধ্যে রেডি-মেড গার্মেন্টস অন্তর্ভুক্ত। এই পণ্যগুলো বাংলাদেশর মোট রপ্তানি ঝুড়ির প্রায় ৯৭ শতাংশ গঠন করে, ফলে জাপান বাজারে প্রবেশের বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
বাংলাদেশও জাপানের ১,০৩৯টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা করবে, তবে তা ১৮ বছরের ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এই ধীরগতি প্রবেশ পদ্ধতি জাপানের পণ্যের বাজারে ধীরে ধীরে প্রবেশ নিশ্চিত করবে।
গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য বিশেষভাবে, রপ্তানি পণ্যগুলো চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই শুল্কমুক্ত থাকবে। এছাড়া সিঙ্গল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী সহজ করবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াবে।
সেবা ক্ষেত্রেও ব্যাপক সমন্বয় হয়েছে। বাংলাদেশ ৯৭টি উপসেক্টর জাপানের জন্য উন্মুক্ত করবে, আর জাপান ১২০টি উপসেক্টর বাংলাদেশি ব্যবসায়ের জন্য খুলে দেবে, যা চারটি সরবরাহ মোডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই পদক্ষেপ সেবা বাণিজ্যকে উভয় পক্ষের জন্য সহজতর করবে।
মানবসম্পদ, কর্মী চলাচল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত ধারাগুলোও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই ধারাগুলো জাপানি বিনিয়োগ বাড়াবে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
চূড়ান্ত টেক্সট এখন জাপানের ডায়েট এবং বাংলাদেশের পরামর্শক পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, গার্মেন্টসের শূন্য শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশি রপ্তানিকর্তাদের জন্য নতুন বিক্রয় চ্যানেল খুলে দেবে এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাবে। একই সঙ্গে, জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা বাড়বে।
তবে, ধাপে ধাপে জাপানি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের ফলে কিছু সেক্টরে ত্বরিত সুবিধা না পেতে পারে। এছাড়া, পণ্যের উৎপত্তি নির্ধারণের নিয়মাবলী মেনে চলা এবং লজিস্টিক্স অবকাঠামোর উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে প্রিফারেন্সিয়াল বাজার প্রবেশের সুবিধা বজায় রাখতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানের সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক সংযোগ দেশের রপ্তানি কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ও জাপানের ইপিএ খসড়া চূড়ান্ত হওয়া দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। শুল্কমুক্ত প্রবেশ, সেবা উন্মুক্তি এবং বিনিয়োগের সুবিধা একসাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করবে।



