২২ ডিসেম্বর রবিবার, ঢাকা সেক্রেটারিয়েটের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা ২০ জন ব্যক্তিকে গনম্যান সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, হিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত বা উচ্চ ঝুঁকির অবস্থায় থাকা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা এই সুরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছেন। গনম্যানের মাধ্যমে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়িয়ে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের শেষে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, গনম্যানের তালিকা প্রস্তুত করতে গৃহ নিরাপত্তা বিভাগ (DGFI), জাতীয় নিরাপত্তা গোপনীয়তা সংস্থা (NSI) এবং বিশেষ শাখা (SB) একত্রে কাজ করেছে। এই তিনটি সংস্থা ঝুঁকির মাত্রা, হুমকির উৎস এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বিশ্লেষণ করে তালিকা তৈরি করেছে এবং তা উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক দলীয় নেতা, সংসদ সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক-সম্পাদকের নাম রয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদক-সম্পাদকেরাও গনম্যান পেয়েছেন। এই দুই প্রকাশনায় কাজ করা ব্যক্তিরা সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা হুমকির মুখে ছিলেন এবং তাই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গনম্যান সরবরাহের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা করা লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, গনম্যানের তালিকায় থাকা সব ব্যক্তিই এই সরঞ্জাম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। কিছু ব্যক্তি নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও গনম্যান না নিতে চেয়েছেন; তবু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গনম্যানের বিতরণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে হয়েছে এবং প্রত্যেকের নিরাপত্তা চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়েছে।
মোট ২০ জনকে গনম্যান সরবরাহ করা হয়েছে, তবে এদের মধ্যে কতজন রাজনীতিবিদ তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উপদেষ্টা তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের পেশা ও পদবী সম্পর্কে বিশদ তথ্য না দিয়ে, শুধুমাত্র নিরাপত্তা ঝুঁকির ভিত্তিতে গনম্যান প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এই গোপনীয়তা তালিকার গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি আরও বাড়ে না।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল গনম্যান বিতরণে স্বচ্ছতা ও সমতা দাবি করে প্রশ্ন তুলেছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সকল প্রয়োজনীয় ব্যক্তির জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত এবং কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত না থাকা উচিত। তবে সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, গনম্যানের মতো সশস্ত্র সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এটি নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান হলেও, একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী সময়ে। গনম্যানের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধ করা গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। গনম্যানের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে, তারা স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে, যা ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। সরকার এই ধরনের নিরাপত্তা উদ্যোগকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।



