মেক্সিকোতে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী রবিবার ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হঠকারী মনোভাবকে ঘৃণার প্রকাশ হিসেবে নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মতবিরোধের অজুহাতে কোনো সংস্থাকে নষ্ট করার প্রচেষ্টা অনুচিত এবং অগ্রহণযোগ্য।
আনসারীর পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ও বিদেশের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও জনমত গঠনের পথে কোনো সংস্থা কখনোই নিজেরই ক্ষতি করে না। এই বক্তব্য তার নিজস্ব ক্যারিয়ারকে প্রতিফলিত করে, যেখানে তিনি পূর্বে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং জাতিসংঘ ও হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মুক্তমতের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়েছেন।
মিডিয়া সংস্থার ধ্বংসের ইচ্ছাকে তিনি ‘হঠকারিতা’ ও ‘নিছক ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তার মতে, এমন আচরণ কেবলমাত্র গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করে না, বরং দেশের আন্তর্জাতিক সুনামকেও নষ্ট করে।
আনসারী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে গৃহীত নীতি ও কৌশল কখনোই জনমত গঠনের জন্য নিজস্ব কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার দিকে ঝুঁকেনি। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলেন, মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো বৈধতা নেই এবং তা কোনোভাবে ন্যায়সঙ্গত করা যায় না।
তার পোস্টের শেষাংশে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এমন ধ্বংসাত্মক প্রচেষ্টা কোনোভাবে যুক্তি দিয়ে সমর্থন করা সম্ভব নয়, এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বর্তমানে মেক্সিকোতে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত পদে আছেন এবং তার পদবী ‘সিনিয়র সচিব’ হিসেবে র্যাঙ্ক করা হয়েছে, যা রায়দূতীয় মর্যাদার সমতুল্য। তার এই মন্তব্য তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশি মিডিয়া স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
এই ধরনের প্রকাশনা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিডিয়া স্বাধীনতা সংক্রান্ত আলোচনার তীব্রতা বাড়াতে পারে। আনসারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলো মিডিয়া অধিকার রক্ষার জন্য আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
মিডিয়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সরকারী নীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে, এমনটি আনসারী তার পোস্টে পরোক্ষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কোনো সংস্থার ধ্বংসের প্রচেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, মুশফিকুল ফজল আনসারীর এই মন্তব্য মিডিয়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এবং হঠকারী ধ্বংসাত্মক মনোভাবের বিরোধিতা করে। তার বক্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি আস্থা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



