ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত যৌথ প্রতিবাদ সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি ৭৭ বছর বয়সী, সারা জীবন স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নের জন্য লড়াই করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদ সভার আয়োজন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ করেছে। এই সংগঠনগুলো দেশের গণমাধ্যমের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য একত্রিত হয়েছে এবং আজকের সভা তাদের সমন্বয়কেন্দ্র।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি জানি না এই মুহূর্তে কোন বাংলাদেশে আছি। আমার বয়স ৭৭। সারা জীবন সংগ্রাম করেছি একটা স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য।” তিনি বর্তমান সরকারের নীতি ও কার্যক্রমকে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ থেকে বিচ্যুত হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আজ ডেইলি স্টার নয়, প্রথম আলো নয়, আজ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে। আমার স্বাধীনভাবে চিন্তা করার যে অধিকার, আমার কথা বলার যে অধিকার, তাতে আবার আঘাত এসেছে।” এ কথায় তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে দেখছেন।
মির্জা ফখরুলের মতে, জুলাই যুদ্ধের স্মৃতি আজও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাইলফলক। তিনি বলেন, “জুলাই যুদ্ধের উপর আঘাত এসেছে। কারণ জুলাই যুদ্ধ ছিল এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র, আজ সেই জায়গায় আঘাত এসেছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঐতিহাসিক সংগ্রামের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈধ রাজনৈতিক শক্তি ও সংগঠনকে একত্রিত করার আহ্বানও তিনি জানিয়ে দেন। “কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সংগঠন নয়, সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের এখন এক হওয়ার সময় এসে গেছে,” তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি দাবি করেন, যারা অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে চায়, যারা সত্যিকারের স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চায়, তাদের শুধু সচেতন হওয়া যথেষ্ট নয়; রুখে দাঁড়াতে হবে।
মির্জা ফখরুলের মতে, রুখে দাঁড়ানো মানে শুধুমাত্র প্রতিবাদ সভা করা নয়, মানববন্ধন গড়ে সংহতি প্রকাশ করা নয়। তিনি উপস্থিত সবাইকে আহ্বান করেন, “আজকে সর্বক্ষেত্রে সর্বশক্তি নিয়ে আপনারা যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন, এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।” এই বক্তব্যে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সমন্বিত শক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা মির্জা ফখরুলের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে একসাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যদিও কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই ধরনের ঐক্যবদ্ধ আহ্বান ভবিষ্যতে বিরোধী শক্তির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, মব (মিলিটারি ব্যাটল) ভায়োলেন্সের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত পদক্ষেপগুলো যদি যথাযথভাবে না নেওয়া হয়, তবে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হতে পারে। মির্জা ফখরুলের এই বক্তৃতা সেই প্রেক্ষাপটে একটি সতর্কতা এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সূচনা নির্দেশ করে। তিনি গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য সকল গণতন্ত্রকামীকে একত্রিত হয়ে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এই আহ্বান কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে সাড়া দেবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সভা এবং মির্জা ফখরুলের বক্তৃতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি শেষ করে বলেন, “এখন রুখে দাঁড়ানোর সময় এসে গেছে,” যা দেশের সকল নাগরিককে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়।



