বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৫-এ ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলা পিকেএসএফের সহযোগিতায় ইএসডিও (ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) কৃষি ইউনিটের অধীনে “ডিমে আছে প্রোট্রিন, ডিম খাই প্রতিদিন” শিরোনামে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ ডিম ও ডিমজাত পণ্যের পুষ্টিকর গুণাবলী সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো এবং দৈনন্দিন খাবারে ডিমের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো।
ইএসডিও কৃষি ইউনিটের নেতৃত্বে এবং পিকেএসএফের আর্থিক সহায়তায় কর্মসূচিটি তালীমুল কুরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসার পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় অবস্থিত এই স্থানটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য সহজে পৌঁছানোর সুবিধা প্রদান করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ইএসডিও কৃষি ইউনিটের হেড অব প্রোগ্রাম বাবুল বণিক এবং তালীমুল কুরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল মুকিদ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা ডিমের পুষ্টিগুণ, বিশেষ করে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ তুলে ধরে নিরাপদ ডিম নির্বাচন ও সংরক্ষণের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। তারা ডিমের তাজা থাকা, সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ এবং স্যানিটেশন বজায় রাখার গুরুত্বও উল্লেখ করেন।
শিশু ও কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ডিমের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। ডিমে উপস্থিত উচ্চমানের প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ফলে মস্তিষ্কের বিকাশ, হাড়ের শক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, এ বিষয়ে তথ্য প্রদান করা হয়।
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। প্রশ্নগুলো ডিমের পুষ্টি, নিরাপদ ব্যবহার এবং ডিমের ইতিহাস সংক্রান্ত ছিল, যা অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান পরীক্ষা করার পাশাপাশি মজা প্রদান করে।
কুইজের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার হিসেবে শিক্ষাসামগ্রী, বই এবং ছোটখাটো উপহার প্রদান করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়াতে সহায়ক হয়।
প্রতিযোগিতার পর, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য ডিম বিতরণ করা হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এক বা দুইটি তাজা ডিম প্রদান করা হয়, যাতে তারা বাড়িতে নিরাপদভাবে ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।
এই ধরনের ক্যাম্পেইন স্থানীয় স্তরে ডিমের সঠিক ব্যবহার এবং পুষ্টিকর মূল্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। ভবিষ্যতে এধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি শিক্ষার প্রসার ঘটবে বলে আশা করা যায়।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: ডিম কিনতে গেলে শেলটি পরিষ্কার ও অখণ্ড কিনা পরীক্ষা করুন, ফ্রিজে ৪-৫°C তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন এবং রান্না করার আগে ডিমের গন্ধ ও রঙে কোনো পরিবর্তন আছে কিনা যাচাই করুন। নিরাপদ ডিমের নিয়ম মেনে দৈনন্দিন খাবারে ডিম অন্তর্ভুক্ত করলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্ভব।



