১৬ ডিসেম্বর নায়রোবিতে সুদানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সশস্ত্র গোষ্ঠী, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একত্রিত হয়ে নয়টি ধাপের একটি রাজনৈতিক রোডম্যাপ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি নাগরিক নেতৃত্বে যুদ্ধ শেষ করে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন পুনরুদ্ধার করার উদ্দেশ্য নিয়ে গৃহীত হয়েছে। রোডম্যাপটি সশস্ত্র বাহিনীর দুই প্রধান শক্তি—সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (SAF) ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)—এর বিপরীতে নাগরিকদেরকে তৃতীয় ধ্রুবক হিসেবে উপস্থাপন করে।
রোডম্যাপের প্রস্তুতকারকরা দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদেশি মধ্যস্থতাকারীদের দ্বারা নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস পেয়েছে; এই নথি তাদের স্বায়ত্তশাসন পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে, নথিতে সামরিক সংস্কার বা সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামো পরিবর্তনের স্পষ্ট ধাপ উল্লেখ করা হয়নি, যা সমালোচকদের মতে রোডম্যাপের বাস্তবিক প্রভাব সীমিত রাখে।
এই ঘোষণার পর সুদানের রাজনৈতিক ও নাগরিক বৃত্তে প্রতিনিধিত্ব, বৈধতা এবং এলিট-নির্ভর সিভিলিয়ান রাজনীতির আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক পুনরায় তীব্র হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক রোডম্যাপকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা বাস্তবিক শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন দিক না এনে দিতে পারে। অন্যদিকে, সমর্থকরা এটিকে আন্তর্জাতিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে সুদানের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে বিবেচনা করছেন।
নায়রোবি ঘোষণার পটভূমি হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসে কুয়াড (ইজিপ্ট, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্র) একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। সেই বিবৃতিতে ত্রিমাসিক সাময়িক যুদ্ধবিরতি, স্থায়ী অস্ত্রবিরতি, মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার এবং নাগরিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া, ওমর আল-বাশীর শাসনকালের অবশিষ্টাংশকে বাদ দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর নাগরিক তত্ত্বাবধানে সংস্কার করার কথাও উল্লেখ করা হয়। নায়রোবি রোডম্যাপের বেশিরভাগ দাবি এই কুয়াডের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল উম্মা পার্টি, সুদানি কংগ্রেস পার্টি, পাশাপাশি দারফুর লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরিত ব্যক্তি ও শরণার্থীদের সমন্বয়কারী সংস্থা। স্লেভ-আল-আউয়ান (SLM‑AW) গোষ্ঠীর নেতা আবদেলওয়াহিদ আল‑নুরও এই নথিতে স্বাক্ষর করেন। অতিরিক্তভাবে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদোকও রোডম্যাপের স্বাক্ষরকারী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, যিনি ২০১৯ সালে বাশীর পতনের পর গৃহীত পরিবর্তনশীল নাগরিক সরকার পরিচালনা করেন এবং অক্টোবর ২০২১-এ SAF ও RSF-এর সমন্বিত সামরিক অভ্যুত্থানের আগে তার মেয়াদ শেষ হয়।
হামদোকের অংশগ্রহণ রোডম্যাপকে অতিরিক্ত বৈধতা প্রদান করে, কারণ তিনি সুদানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম মুখ। তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুদানের নাগরিক শক্তির ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরতে সহায়তা করে। তবে, রোডম্যাপের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা এখনও অনিশ্চিত; বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের স্বীকৃতি ও তাদের সঙ্গে সমঝোতা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রোডম্যাপকে সুদানের শান্তি প্রক্রিয়ার একটি নতুন মোড় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে রোডম্যাপের কার্যকরী ধাপগুলো স্পষ্ট না হলে তা কেবল কথার স্তরে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। ভবিষ্যতে রোডম্যাপের সফলতা নির্ভর করবে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা, মানবিক সহায়তার প্রবেশ এবং নাগরিক নেতৃত্বে নিরাপত্তা কাঠামোর সংস্কারের বাস্তবায়নের উপর।
সুদানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রোডম্যাপের গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন পরীক্ষা করা হবে, এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা এই প্রক্রিয়ায় কী ভূমিকা রাখবে তা নির্ধারণ করা হবে। যদি রোডম্যাপের ধাপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাপ্তি এবং গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। অন্যথায়, রোডম্যাপকে শুধুমাত্র প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, যা বাস্তবিক শান্তি ও পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে না।



