ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ান চলচ্চিত্রের পুরোনো মুখমণ্ডল মিঠুন চক্রবর্তী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বাড়তে থাকা সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের ক্ষতি হলে তা পুরো সমাজের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এই মন্তব্যগুলো দেশের সাম্প্রতিক দু’টি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এসেছে।
ঢাকার ছায়ানট ভবনে অযথা হামলা ও ধ্বংসের ঘটনা ঘটার পর, ময়মনসিংহের ভালুকা গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক দিপু চন্দ্র দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সংবাদ দেশজুড়ে শোকের স্রোত তৈরি করে। উভয় ঘটনার ফলে বহু মানুষ শোকাহত ও রাগান্বিত হয়ে উঠেছে, এবং সামাজিক মিডিয়ায় নিন্দা ও সমবেদনা প্রকাশের ঢেউ দেখা যায়।
এই দু’টি ঘটনার পর মিঠুন চক্রবর্তী প্রকাশ্যে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমার আবেগ জড়িয়ে আছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি আমাকে গভীর দুঃখে ভাসিয়ে দিয়েছে”। তিনি আরও যোগ করেন, “এমন সময়ে আমি দেশের এই রূপকে স্বীকার করতে পারি না, না জানার ইচ্ছা রাখি”। তার এই বক্তব্যে দেশের প্রতি তার ব্যক্তিগত সংযোগ ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মিঠুনের কথায় তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এবং উল্লেখ করেন যে, সহিংসতা ও অস্থিরতা সমাজের ভিত্তি নষ্ট করে দেয়। তিনি বলেন, “সবকিছুরই একটা শেষ আছে, এবং তা আমাদের সকলের দায়িত্ব যে আমরা সঠিক পথে চলি”। তার এই মন্তব্যে ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার প্রতি আহ্বান রয়েছে।
চক্রবর্তী আরও উল্লেখ করেন, “উপরওয়ালা সব দেখছেন, এবং এর মূল্য আমাদের প্রত্যেককে দিতে হবে”। এই বাক্যে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি নৈতিক বার্তা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জনগণ শান্তি ও মানবিকতার পথে ফিরে আসবে।
মিঠুনের মতামতের সঙ্গে সঙ্গে ওপার বাংলার আরও কয়েকজন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সবাই একসঙ্গে বলছেন যে, সহিংসতা কোনো সমাধান নয় এবং শান্তি, মানবিকতা ও সংহতি বজায় রাখা উচিত। তাদের কণ্ঠে দেশের সংস্কৃতি রক্ষার জন্য একতাবদ্ধতা ও দৃঢ়সংকল্পের সুর শোনা যায়।
এই শিল্পীদের উদ্বেগের পেছনে দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশের ক্ষয় ও সামাজিক অশান্তি নিয়ে গভীর চিন্তা রয়েছে। তারা উল্লেখ করেন যে, নাট্য, সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রের মতো শিল্পের ক্ষেত্রগুলোও এই অস্থিরতার ফলে প্রভাবিত হচ্ছে, এবং সৃষ্টিশীলতা দমন হচ্ছে।
বিভিন্ন মিডিয়া চ্যানেল ও সামাজিক নেটওয়ার্কে এই শিল্পীদের মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং সাধারণ জনগণও তাদের সঙ্গে সমবেত হয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার আহ্বান জানায়। অনলাইন আলোচনা গোষ্ঠীগুলোতে এই বিষয়টি নিয়ে বিশাল পরিসরে মতবিনিময় হয়, যেখানে অনেকেই সহিংসতার বিরোধিতা করে এবং ন্যায়বিচারের দাবি রাখে।
অধিকাংশ বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের প্রকাশনা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, কারণ শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখেন। তাদের স্বর উচ্চে উঠে আসলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বাড়ে, যাতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
মিঠুন চক্রবর্তীর পাশাপাশি, অন্যান্য শিল্পীও তাদের কাজের মাধ্যমে শান্তি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষা, সচেতনতা ও ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের সাংস্কৃতিক সংস্থা ও শিল্প সমিতিগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা একত্রে কর্মসূচি চালু করে, কর্মশালা ও আলোচনা সভা আয়োজন করে, যাতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সহনশীলতা ও সমঝোতার চেতনা গড়ে ওঠে।
সারসংক্ষেপে, মিঠুন চক্রবর্তী ও অন্যান্য শিল্পী সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটিত সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শান্তি, মানবিকতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



