ইলেকশন কমিশন মঙ্গলবার সকাল দশটায় অডিটরিয়ামে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ব্রিফিং আয়োজন করেছে, যা পূর্বে ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত ছিল। এই পরিবর্তন নির্বাচনী প্রস্তুতির ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, সভা এখন মঙ্গলবার সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত হবে এবং সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সমন্বয় নির্বাচনের সময়সূচি মেনে চলতে সহায়তা করবে।
রবিবার আইন শৃঙ্খলাবাহিনী প্রধানদের সঙ্গে একটি বৈঠকের পর, এবার মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পূর্বের বৈঠকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছিল।
ব্রিফিংয়ে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সকল কর্মকর্তা নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করবেন।
ইলেকশন কমিশনের সিইসি এবং চারজন কমিশনারও এই বৈঠকে অংশ নেবেন। তাদের উপস্থিতি নির্বাচনের সামগ্রিক তদারকি ও নির্দেশনা প্রদানকে সমর্থন করবে।
বৈঠকের সভাপতিত্ব ইলেকশন কমিশনের সচিব করবেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব এহছানুল হক এবং আইজিপি বাহারুল আলমও অংশগ্রহণ করবেন।
ব্রিফিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিশ্চিত করা। নির্বাচনের সময়সূচি, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি ইত্যাদি বিষয়গুলো এ সভায় আলোচনা হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব ভোটের ফলাফল সংগ্রহ ও প্রমাণিত করা।
বৈঠকে ভোটের সামগ্রিক প্রস্তুতি, আচরণবিধি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। এ ধরনের নির্দেশনা মাঠে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে।
ইলেকশন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয় বাড়িয়ে নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের অশান্তি বা অনিয়ম না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও উপস্থাপিত হবে।
ব্রিফিংয়ের ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে, যার মধ্যে ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটকেন্দ্রের সরঞ্জাম সরবরাহ এবং নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ অন্তর্ভুক্ত। এই প্রস্তুতি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সফলতা নিশ্চিত করবে।



